Wednesday, October 21, 2026
Homeসিলেটমৌলভীবাজার জেলাশ্রীমঙ্গলে ব্যতিক্রমী ‘নবদুর্গা পূজা’ শুরু

শ্রীমঙ্গলে ব্যতিক্রমী ‘নবদুর্গা পূজা’ শুরু

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি: সারাদেশে শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আয়োজন এখনো শুরু হয়নি। তবে মহালয়ার পর দিন থেকেই পূজার আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ইছামতি চা বাগানে। ধূপ-ধুনোর গন্ধ, মন্ত্রোচ্চারণ আর ভক্তদের প্রার্থনায় মুখর মন্দির প্রাঙ্গণ। এখানে একেক দিন পূজা করা হবে দেবী দুর্গার একেকটি রূপে। এভাবেই মহালয়ার পরদিন থেকে শুরু হয়েছে ব্যতিক্রমী নবদুর্গা পূজা।

রবিবার (১১ অক্টোবর) সকালে মঙ্গলচণ্ডী মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, দেবীর প্রথম রূপ শৈলপুত্রীর আরাধনায় ব্যস্ত পুরোহিত। ভক্তরা শ্রদ্ধা আর ভক্তিভরে দেবীর চরণে অঞ্জলি দিচ্ছেন। আগামী দিনগুলোতে পর্যায়ক্রমে দেবীর ব্রহ্মচারিণী, চন্দ্রঘণ্টা, কুষ্মাণ্ডা, স্কন্দমাতা, কাত্যায়নী, কালরাত্রি, মহাগৌরী ও সিদ্ধিদাত্রী রূপের পূজা অনুষ্ঠিত হবে। নবমী তিথি পর্যন্ত চলবে এই বিশেষ আয়োজন।

প্রচলিত শারদীয় দুর্গাপূজার আগেই এমন আয়োজন শ্রীমঙ্গলের ইছামতি চা বাগানের মঙ্গলচণ্ডী মন্দিরকে দিয়েছে আলাদা পরিচিতি। আয়োজকদের দাবি, বাংলাদেশে আগাম নবদুর্গা পূজার এমন আয়োজন আর কোথাও নেই। ২০১০ সাল থেকে চলে আসা এই পূজা এবার ১৬তম বছরে পদার্পণ করেছে। প্রতিবছরই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্তরা এখানে আসেন দেবীর দর্শন ও আশীর্বাদ নিতে।

হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী দুর্গার নয়টি রূপের আলাদা তাৎপর্য রয়েছে। সেই বিশ্বাস ও পৌরাণিক আচার অনুসরণ করেই মঙ্গলচণ্ডী মন্দিরে প্রতিদিন একটি করে রূপের পূজা করা হয়। প্রতিদিনের পূজায় দেশ, জাতি ও মানুষের শান্তি-কল্যাণ কামনা করেন ভক্তরা।

শ্রীশ্রী মঙ্গলচণ্ডী সেবাশ্রমের নবরূপে নবদুর্গা পূজার পুরোহিত দীপংকর ভট্টাচার্য।তিনি বলেন, দুর্গাপূজায় পাঠ করা চণ্ডীতে দেবীর নয়টি রূপের উল্লেখ রয়েছে। সেই রূপগুলোর মাহাত্ম্য তুলে ধরতেই এখানে আলাদা আলাদাভাবে নয় দিন নয় রূপে পূজা করা হয়। অনেকেরই দেবীর নয়টি রূপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা নেই। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাঁদের সেই ধারণা আরও স্পষ্ট হয়।

এই পূজা ঘিরে শুধু ইছামতি চা বাগানেই নয়, দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকেও ভক্তদের আগমন ঘটে। কেউ পরিবার নিয়ে আসেন, কেউবা নিয়মিত পূজার শুরুতে দেবীর দর্শন নিতে ছুটে আসেন মন্দিরে।

শ্রীমঙ্গল শহর থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পূজা দেখতে এসেছেন প্রথমা কুন্ড। তিনি বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব। এখানে মহালয়া থেকেই পূজা শুরু হয়। আমরা চাই, এবারও যেন সুন্দরভাবে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন করতে পারি।

কুলাউড়া থেকে আসা দর্শনার্থী দেবী সাহা।তিনি বলেন, গত কয়েক বছর ধরে নবদুর্গা পূজার প্রথম দিনেই তিনি এখানে আসেন। মাকে প্রণাম করে যান। তাঁর ভাষায়,সব জায়গায় দুর্গাপূজা শুরুর আগেই এখানে এসে পূজার আনন্দ পাওয়া যায়।

আগাম এই পূজা এখন স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি ভক্তদের মিলনমেলারও উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আয়োজনের আগে এই মন্দিরে দেবীর আরাধনা ভক্তদের মনে এনে দেয় উৎসবের আগাম আবহ।

শ্রীশ্রী মঙ্গলচণ্ডী সেবাশ্রম নবরূপে নবদুর্গা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাজন ভট্টাচার্য।তিনি বলেন, ২০১০ সাল থেকে তাঁরা এখানে নবদুর্গা পূজার আয়োজন করে আসছেন। এবার ১৬তম আয়োজন। সারা দেশে দুর্গাপূজা শুরু হওয়ার আগেই তাঁদের এই পূজা শুরু হয়। এ কারণে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্তরা এখানে আসেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, দেবীর আশীর্বাদে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক, মানুষের কল্যাণ বয়ে আসুক।’

মহালয়ার পরদিন থেকে শুরু হওয়া এই নবদুর্গা পূজায় প্রতিদিনই নতুন রূপে আবির্ভূত হন দেবী। আর সেই আরাধনাকে ঘিরে ইছামতি চা বাগানের মঙ্গলচণ্ডী মন্দিরে তৈরি হয় ভক্তি, বিশ্বাস ও সম্প্রীতির এক বিশেষ আবহ।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments