নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে মৌলভীবাজার বিএনপিতে চাপাক্ষোভ রয়েছে। কর্মী সমর্থকরা প্রাথমিক এই মনোনয়ন পরিবর্তনের প্রত্যাশায় করছেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত ৩ নভেম্বর দেশের ২৩৭ সংসদীয় আসনের প্রাথমিকভাবে মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। এরমধ্যে মৌলবাজারের ৪টি আসন রয়েছে। মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকে স্থানীয় বিএনপির মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে বিভিন্ন এলাকায় সভা-সমাবেশ ও শোডাউন হয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নিকট প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়েছে।
প্রার্থী ঘোষণার পর মৌলভীবাজারের জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ প্রকাশ্যে কোন বিরোধিতা না করলেও, মাঠের নেতাকর্মীরা মাঠে সরব রয়েছেন। বঞ্চিতদের অনুসারীরা বিভিন্ন আসনের প্রার্থী পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।
এই জেলার চারটি আসনে বিএনপির অন্তত ১২ সম্ভাব্য প্রার্থী মনোনয়ন পেতে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। তবে কেন্দ্র থেকে মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনে নাসির উদ্দিন মিঠু, মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে শওকতুল ইসলাম শকু, মৌলভীবাজার-৩ (মৌলভীবাজার সদর- রাজনগর) আসনে এম নাসের রহমান এবং মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে মুজিবুর রহমানকে দলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছেন।এই চারটি আসনের মধ্যে কেবলমাত্র সাবেক অর্থমন্ত্রী এম, সাইফুর রহমানের ছেলে এম নাসের রহমানকে নিয়ে প্রকাশ্যে তেমন বিরোধিতা নেই তবে অন্য আসনগুলোতে সভা-সমাবেশ হচ্ছে প্রার্থী পরিবর্তনের জন্য।
মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনে বিএনপির দুই সম্ভাব্য প্রার্থীর মাঝে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নাসির উদ্দিন মিঠু প্রাথমিকভাবে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন। এই আসনের দুইটি উপজেলায় ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত নেতা ছয় ইউনিয়নের জুড়ী উপজেলার বাসিন্দা। আর মনোনয়নবঞ্চিত কাতার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক সাজু বড়লেখা এলাকার বাসিন্দা। বড়লেখার ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ১১ হাজার ৬৬৮। অন্যদিকে, বিএনপি প্রার্থীর নিজ উপজেলা জুড়ীতে ভোটার এক লাখ ২২ হাজার ২৭২।
মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে জেলা বিএনপির নেতা ও আইনজীবী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এডভোকেট এএনএম আবেদ রাজা দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। এছাড়া মনোনয়নের দৌড়ে ছিলেন কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি যুক্তরাজ্য প্রবাসী শওকতুল ইসলাম শকু ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী ড. সাইফুল ইসলাম। অবশেষে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে শওকতুল ইসলাম শকুকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। বিগত ১৬ বছর আওয়ামী লীগের আমলে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন এড. আবেদ রাজা। তার অনুসারীরা গত ৯ নভেম্বর কুলাউড়া আসনে দলীয় মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে সভা সমাবেশ ও মোটরসাইকেল শোডাউন করেছেন।
এছাড়া,সোমবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে কুলাউড়া উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সংসদীয় আসনের পুনর্বিবেচনা পরিষদ। পরিষদের আহবায়ক উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র কামাল উদ্দিন আহমেদ জুনেদ বলেন, অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা কারানির্যাতিত, হামলা-মামলার শিকার, ত্যাগী ও আদর্শবাদী নেতা। ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে লড়াই করে বারবার তিনি কারাবরণ করেছেন। এই সাহসী যোদ্ধা কুলাউড়ার সাধারণ মানুষের মন জয় করেছেন। কুলাউড়ায় ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে হলে আবেদ রাজার কোন বিকল্প নেই।
মৌলভীবাজার-৩ (সদর ও রাজনগর) আসনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ুন, সাবেক সাধারণ সম্পাদকসহ পাঁচ নেতা মনোনয়ন পেতে আগ্রহী ছিলেন। তবে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম নাসের রহমান। এ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার আশঙ্কা নেই বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে নাসের রহমান এখনো জেলা কমিটির নেতাদের নিয়ে কোনো মতবিনিময় সভা না করায় অনেক নেতাকর্মী ক্ষুব্ধ হয়েছেন।
মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন শ্রীমঙ্গল পৌরসভার কয়েকবারের মেয়র জেলা বিএনপি নেতা মহসিন মিয়া মধু, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাজী মুজিবুর রহমান, জেলা বিএনপির সদস্য মৌলভী আব্দুল ওয়ালী সিদ্দিকী। তাদের মধ্য থেকে হাজী মুজিবুর রহমানকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষনা করা হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী মহসিন মিয়া মধু। অন্যদিকে,জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক মেয়র মহসিন মিয়া মধু বলেন, দলীয় মনোনয়ন পাই বা না পাই, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো।


