Wednesday, October 21, 2026
Homeসিলেটমৌলভীবাজার জেলামৌলভীবাজারের বিভিন্ন চা বাগানের শ্রমিকরা তীব্র শীতে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন

মৌলভীবাজারের বিভিন্ন চা বাগানের শ্রমিকরা তীব্র শীতে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের বিভিন্ন চা বাগানের গাছ গাছালিতে ঘেরা থাকায় চা বাগান গুলোতে পৌষের শুরুতে শীতের তীব্রতা বেশি অনুভুত হচ্ছে। তার সাথে হীমেল বাতাস ও ঘন কূয়াশা তুলনামূলক বেশি থাকে। ফলে প্রচণ্ড ঠান্ডায় কাবু হয়ে পড়েন বয়স্ক চা শ্রমিক ও তাদের শিশুরা। পর্যাপ্ত গরম কাপড়ের অভাবে হাড় কাঁপানো শীতে তারা খুবই কষ্টে দিনাতিপাত করছেন।

কয়েক বছর আগেও শ্রমিকদের চাহিদা অনুযায়ী বাগান কর্তৃপক্ষ শীত নিবারনে চটের বস্তা বিতরণ করলেও এখন আর কোন কিছু দেয়া হয় না। শীতের কারণে বয়স্ক ও শিশুদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগও বাড়তে শুরু করেছে।
বিশেষ করে শ্রীমঙ্গল,কুলাউড়া,কমলগঞ্জ, রাজনগর, মৌলভীবাজার সদর, বড়লেখা ও জুড়ি উপজেলার প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক চা শ্রমিক শীত মৌসুমে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। আর্থিক অচ্ছলতার জন্য তাদের জীবনমান অত্যান্ত কষ্টের মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত করতে হচ্ছে।
চা শ্রমিকরা জানান, স্বল্প আয়ের কারণে গরম কাপড় কেনা তাদের অধিকাংশেরই সামর্থ্যের বাইরে। শীত নিবারনে এসব পরিবার সদস্যরা ঘরের ভেতরে ও বাইরে খড়খুঁটো দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে রাত কাটাতে হয়। বর্তমানে চা বাগানে শ্রমিকদের মধ্যে বাগান পঞ্চায়েত, জনপ্রতিনিধি ও ম্যানেজমেন্টের সুবিধাভোগীসহ স্বচ্ছল হাতে গোণা কিছু পরিবার স্বাচ্ছন্দে দিন কাটালেও ৯০ শতাংশেরই দু:খ-কষ্টে দিনযাপন করতে হচ্ছে।
শমশেরনগর চা বাগানের শ্রমিক সবিতা রানী, আদরমনি মৃধা বলেন, দৈনিক মাত্র ১৮৭ টাকা মজুরিতে পাঁচ, সাত সদস্যের পরিবারের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। শ্রমিকরা খাইবো কি আর কাপড় চোপড় কিনবো বা কি? আর বাজারে জিনিসপত্রের দামও যে হারে বাড়ছে তাতে গরম কাপড় কেনা মোটেও সাধ্য নেই। অভাব অনটনসহ সব মিলিয়ে শীতে কষ্ট আরও একধাপ বেড়েছে।

সবগুলো চা বাগানে একই অবস্থা। তারা আরও বলেন, শীতে খড়কুঁটো বিছিয়ে কেউ কেউ ঘুমানোর ব্যবস্থা করেন। কেউ কেউ বস্তা বিছিয়ে ঠান্ডা থেকে রক্ষার চেষ্টা করেন আবার কেউ কেউ আগুন জ্বালিয়ে শরীরে গরম ভাপ লাগান।
শমশেরনগর কানিহাটি চা বাগানের শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন ও চা শ্রমিক সংঘের নেতা রাজদেব কৈরী বলেন, শীতের সময়ে চা শ্রমিকদের মধ্যে বাগান কর্তৃপক্ষ কোন শীতবস্ত্র বিতরণ করেন না। কয়েক বছর আগে বাগান কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের মধ্যে চটের বস্তা বিতরণ করতো। এখন আর কিছুই দেয়া হয় না। অধিকাংশ শ্রমিক পরিবার সদস্যরা শীতে কষ্ট পোহাচ্ছেন।
তাছাড়া এখন ঠান্ডা বাড়তে শুরু করলেও চা বাগানগুলোতে চিকিৎসা ব্যবস্থাও নাজুক। ডিসপেনসারীগুলোতে ভালো চিকিৎসা সুবিধাও নেই। সবমিলিয়ে চা শ্রমিকরা ভালো নেই। বয়স্ক ও শিশুদের মধ্যে সর্দি-কাশি, কোল্ড ডায়রিয়া, শ^াসকষ্টসহ বিভিন্ন উপসর্গ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু সুচিকিৎসা কোন ব্যবস্থা নেই অধিকাংশ চা বাগানে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments