Wednesday, October 21, 2026
Homeসিলেটমৌলভীবাজার জেলাশিশু রামিসা-সহ সকল কন্যাশিশু ও নারী ধর্ষণ-হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত

শিশু রামিসা-সহ সকল কন্যাশিশু ও নারী ধর্ষণ-হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : ঢাকা মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যার প্রতিবাদে এবং সারাদেশে সংগঠিত সকল নারী-শিশু ধর্ষণ-হত্যার বিচারের দাবিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট মৌলভীবাজার শহর শাখার বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত।

শহর শাখার সাধারণ সম্পাদক শ্যামল সরকারের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সুরাইয়া হকের সঞ্চালনায় ২৩ মে’২৬ শনিবার বেলা সাড়ে ৪টায় মৌলভীবাজার শহরস্থ চৌমুহনায় এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বক্তব্য রাখেন সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতি বিশ্বজিৎ নন্দী, সাধারণ সম্পাদক রাজিব সূত্রধর এবং মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ শাখার সংগঠক পূজা দেব প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, সারাদেশে এখন নারী-শিশু ধর্ষণ, নিপীড়ন, হত্যা এক মহামারী পরিস্থিতিতে দাড়িয়েছে। আর সাথে দাঁড়িয়েছে রাষ্ট্র এবং সরকারের দায়হীনতা। এই সমাজে নারীকে ভোগ্য পণ্যে হিসেবে ভাবা হয়। এই পুরুষশাসিত সমাজ ব্যবস্থায় খোশগল্প, সিনেমা, বিজ্ঞাপন, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সভা-সমাবেশে নারীর শরীর নিয়ে এবং নারীকে অবজ্ঞা করে আলোচনা বক্তৃতা চলে আসছে। এমন মানসিকতা থাকলে এই রাষ্ট্রে নারী কিংবা কন্যাশিশু ধর্ষিত হবে এবং নিপীড়িত হবে। এমন সমাজ কী আমরা চেয়েছিলাম? যেই সমাজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নারীশিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীর দ্বারা লাঞ্ছিত হয়ে থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। কিন্তু পরক্ষণেই একদল ধর্মীয় লেবাসধারী থানায় মব করে নিপীড়ককে থানা থেকে নিয়ে আসে এবং ফুলের মালা পড়িয়ে হীর সাজিয়ে নারী নিপীড়নকে উৎসাহিত করে। এই সমাজে যখন নারীকে নিপীড়ন করা হয় আর সেটাকে একদল মানুষ থাকে তারা সেটাকে সমর্থন দিয়ে নিপীড়কে উৎসাহী করে। নারীর যৌনাঙ্গ নিয়ে যখন শ্লোগান আসে সেই স্লোগানকে আবার প্রতিবাদের স্লোগান বানানো হয়, এমন সমাজে নারীর প্রতি সম্মান কেমন করে বাড়বে? তাছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যায় নারীকে হেয় করে নোংরা কমেন্ট, কনটেন্ট তৈরি হয়, সেখানেই ধর্ষণ ও নিপীড়নের উপাদান লুকায়িত থাকে। কখনো তনু ধর্ষণ-হত্যার প্রতিবাদে, কখনো শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যার প্রতিবাদে এবং রামিসা হত্যার প্রতিবাদে আমাদের রাস্তায় দাড়িয়ে প্রতিবাদ করতে হচ্ছে! যারা নারীকে অবজ্ঞা করে, নোংরা কমেন্ট এবং নারী নিপীড়নকারীকে পুরষ্কৃত করে ধর্ষণ নিপীড়নকে সমর্থন দেয়, প্রশাসনের কাজ তাদেরকে গ্রেফতার করা এবং শাস্তি প্রদান করা। কিন্তু হিতে বিপরীত হয়। আর আমরা আমাদের ফুটফুটে শিশু এবং নারীদের রক্তাক্ত শরীর উপহার পাই। এমনকি এখন তো বালক শিশু বলাৎকার বৃদ্ধি পাচ্ছে, ছেলে শিশু মারাও যাচ্ছে এবং তারা বিকৃত মস্তিষ্ক নিয়ে বেড়ে উঠছে।

আমরা রামিসার পরিবারের প্রতি সরকারের শুধুমাত্র সহানুভূতি দেখতে চাই না, চাই এই ঘৃণ্যতম হত্যার দ্রুত বিচার এবং অপরাধীরদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা। একইসাথে দেশে নারী-শিশু ধর্ষণ, নিপীড়ন, নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানাই।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments