Wednesday, October 21, 2026
Homeমৌলভীবাজার জেলাকমলগঞ্জঅবিলম্বে ক্যামেলিয়া হাসপাতালে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা না হলে আন্দোলনের হুশিয়ারি

অবিলম্বে ক্যামেলিয়া হাসপাতালে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা না হলে আন্দোলনের হুশিয়ারি

কমলগঞ্জ প্রতিনিধিঃ দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় ধরে ডানকান ব্রাদার্সের পরিচালনাধীন ১৫ টি চা-বাগানের লক্ষাধিক চা-জনগোষ্টির জনসাধারণ চিকিৎসা সুবিধা বঞ্চিত করে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর চা বাগানে অবিস্থিত ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালে চা-শ্রমিকদের চিকিৎসা সেবা বন্ধ রাখায় চা-শ্রমিকরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত হাসপাতাল চালু করার দাবি জানান। গত রোববার (৩ মে) সন্ধ্যায় কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগরস্থ কার্যালয়ে চা-শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভা থেকে এই দাবি জানানো হয়।
চা-শ্রমিক সংঘের জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শ্যামল অলমিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস। চা-শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হরিনারায়ন হাজরার পরিচালনায় অনুষ্টিত সভায় বক্তব্য রাখেন সাংগঠনিক সম্পাদক লক্ষèীমনি বাক্তি, দপ্তর সম্পাদক রামনারায়ন গৌড়, প্রচার সম্পাদক কাজল হাজরা, শত্রুঘœ লোহার, সত্যনারায়ন নাইড়, সবুজ বাউরী, শেফালী র‌্যালী, নিয়তি বাউরী প্রমূখ।
সভায় বক্তারা বলেন দেশের চা-উৎপাদনকারী শীর্ষ কোম্পানি ডানকান ব্রাদাসের পরিচালনাধীন ১৫ টি চা-বাগানের শ্রমিক-কর্মচারী ও তার পরিবারের প্রায় লক্ষাধিক জনগণের চিকিৎসার জন্য যে ন্যূনতম সুযোগ ছিল তাও গত ৩৭ দিন যাবত বন্ধ রয়েছে। গত ২৭ মার্চ একজন চা-শ্রমিক সন্তানের মৃত্যুতে সৃষ্ট অনাকাঙ্খিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঐদিন থেকে ‘ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতাল’-এর চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২৬ মার্চ রাতে শমসেরনগর চা-বাগানের বাবুল বরিদাসের ৭ম শ্রেণিতে পড়–য়া ১৩ বছরের স্কুল ছাত্রী ঐশী রবিদাস মাথা ব্যাথ্যা নিয়ে ক্যামেলিয়া হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরদিন সকালে ঐশী রবিদাসের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা হাসপাতালের ডাক্তারসহ স্টাফদের অবরুদ্ধ করে রাখে। পরবর্তীতে প্রশাসনের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার অজুহাতে চা-শ্রমিকদের জিম্মি করে চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেন। হাসপাতাল বন্ধ থাকায় চিকিৎসার অভাবে অনেক চা-শ্রমিকের মৃত্যুর সংবাদও পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন বাংলাদেশে বড় বড় হাসপাতালে রোগীদের সাথে চিকিৎসকদের অনভিপ্রেত ঘটনা প্রায়শঃই সংবাদে মাধ্যমে প্রকাশ হয়, আবার সেটা অল্প সময়ের মধ্যে সমাধানও হয়। কিন্ত শ্রমিকদের চিকিৎসা সেবাকে জিম্মি করে এভাবে হাসপাতাল বন্ধ রাখার ঘটনা নজিরবিহীন। দৈনিক মাত্র ১৮৭ টাকা মজুরিতে চা-শ্রমিকদের ‘নুন আনতে পান্তা ফুরায়’ অবস্থা, তার উপর ন্যূনতম যে চিকিৎসা ক্যামেলিয়া হাসপাতালে পাওয়া যেত তাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ ২০১৮ সালে বিবিএস ও ইউনিসেফের যৌথ পরিচালনায় জরিপের তথ্য তুলে ধরে বলেন চা-বাগানের ৭৪ শতাংশ পরিবার দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করে; অপুষ্টির কারণে ৪৫ শতাংশ শিশু খর্বকায়, ২৭ শতাংশ শিশু শীর্ণকায়,  ৪৭.৫ শতাংশ শিশু কম ওজনের, ১৮ বছরের নিচে কিশোরী বিয়ে হার ৪৬ শতাংশ, মা হওয়ার হার ২২ শতাংশ; ন্যূনতম স্যানিটেশন সুবিধার বাইরে ৬৭ শতাংশ শ্রমিক পরিবার। চরম দারিদ্রের কষাঘাতে জর্জরিত মৌলিক অধিকার বঞ্চিত চা-শ্রমিকদের চিকিৎসা সুবিধা বঞ্চিত রাখা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
ক্যামেলিয়া হাসপাতাল চালু, ঐশী ররিদাসের মৃত্যুর ঘটনায় যথাযথ তদন্তসহ ৪ দফা দাবিতে গত ১৩ এপ্রিল মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। কিন্ত তারপর টালবাহনা করে অদ্যাবধি শ্রমিকদের চিকিৎসার মৌলিক অধিকার খর্ব করে হাসপাতাল বন্ধ রাখা হয়েছে। এমতবস্থায় আগামী ১৫ মে এর মধ্যে হাসপাতাল চালু না করা হলে শ্রমিকরা আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments