Wednesday, October 21, 2026
Homeসিলেটমৌলভীবাজার জেলাবিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা করলেন-তারেক রহমান

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা করলেন-তারেক রহমান

ডেক্স রিপোর্ট : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বিএনপি। আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় তিনি জানান, বিএনপি নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে ‘জুলাই সনদ’ অবশ্যই বাস্তবায়ন করবে।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের পর জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

শুভেচ্ছা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত আদর্শ থেকে বঞ্চিত হয় নাই। তলাবিহীন ঝুড়ির দুর্নাম ঘুচিয়ে দেশকে সমৃদ্ধ করেছেন জিয়াউর রহমান। পরবর্তিতে খালেদা জিয়াও সেই পথ ধরে এগিয়ে নিয়েছেন।’

ভাষণের একপর্যায়ে তারেক রহমান বলেন, ‘জুলাই সনদ আমরা অবশ্যই বাস্তবায়ন করব।’

অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আজ এক নতুন ইতিহাস, আজকে নতুন নেতৃত্ব। সেই নেতা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সমগ্র জাতি আজ উন্মুখ হয়ে আছে। নতুন নেতৃত্ব জটিল রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন বার্তা নিয়ে আসবেন। তাঁর নেতৃত্বে নতুন এক সূর্যোদয় হবে।

 বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে যা আছে

কর্মজীবী নারীদের জন্য কর্মস্থলে শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র (ডে-কেয়ার) এবং ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ঘোষিত দলের ইশতেহারে এ প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়েছে।

আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার ঘোষণা করেন।

ইশতেহারে পাঁচটি অধ্যায়ে ভাগ করে বিভিন্ন খাত ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে ইশতেহারে বলা হয়, নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা গেলে জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা সহজ হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত নারীদের নেতৃত্ব, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সুরক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে। দেশের সুষম উন্নয়নের জন্য বিএনপি সব কর্মকাণ্ডে নারী সমাজকে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত করার অঙ্গীকার করেছে।

এতে আরও বলা হয়, নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে কর্মস্থলে শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র (ডে-কেয়ার) স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি গার্মেন্টস কারখানাসহ সব শিল্পপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস ও আদালতে কর্মরত মায়েদের জন্য আলাদা ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপনের কথা বলা হয়েছে। এসব কর্নারে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশে মায়েরা তাঁদের নবজাতককে বুকের দুধ খাওয়াতে পারবেন।

ইশতেহার অনুযায়ী, দেশের প্রায় চার কোটি প্রান্তিক পরিবারের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ দরিদ্র গ্রামীণ পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হবে। এই কার্ড পরিবারের নারীপ্রধানের নামে ইস্যু করা হবে। এর মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে প্রতি মাসে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা অথবা চাল, ডাল, তেল, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে। এই সহায়তার পরিমাণ ভবিষ্যতে আরও বাড়ানো হবে বলে জানানো হয়েছে। বিএনপির ভাষ্য অনুযায়ী, এই কার্ড দারিদ্র্য বিমোচন, ক্ষুধামুক্তি ও নারীর স্বাবলম্বিতার নিশ্চয়তা দেবে।

নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে ইশতেহারে বলা হয়েছে, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনা মূল্যে পড়াশোনার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। একই সঙ্গে একাডেমিক ও কারিগরি শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে গ্রাম-শহর নির্বিশেষে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিকাশে স্বাস্থ্য, গ্রামীণ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা ও মানবিক বিকাশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নারীর স্বপ্নপূরণে রাষ্ট্র যেন কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নীতিনির্ধারণে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত নেতৃত্ব বিকাশ, রাজনীতি ও প্রশাসনে নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি করার ঘোষণা রয়েছে ইশতেহারে। পাশাপাশি নারীদের চলাফেরার নিরাপত্তা, প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে নারীর ন্যায্যতা নিশ্চিতের কথাও বলা হয়েছে।

নারীর প্রতি লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, অনলাইন হয়রানি ও বুলিং প্রতিরোধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে বিএনপি। নারীর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে উল্লেখ করে ইশতেহারে বলা হয়েছে—নারী নির্যাতন, যৌতুক প্রথা, এসিড নিক্ষেপ, যৌন হয়রানি, ধর্ষণ, নারী ও শিশু পাচাররোধে কঠোর কার্যকর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ধর্ষক ও নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

ইশতেহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ইউনিয়ন পর্যায়ে বিশেষায়িত ‘নারী সাপোর্ট সেল’ বা নারী কল্যাণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে, যেখানে নারী চিকিৎসক, আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা ভুক্তভোগীদের সমন্বিত সহায়তা দেবেন।

নারী উদ্যোক্তাদের আর্থিক ও দক্ষতা সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে বলা হয়েছে, স্বনির্ভরতা বাড়াতে ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পে যোগ্যতার ভিত্তিতে নারী উদ্যোক্তাদের বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা ও কর-ছাড় দেওয়া হবে। তাঁদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং ডেভেলপমেন্ট ও মার্কেটিং সাপোর্ট দেওয়া হবে।

আনুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক খাতে নারীর কর্মসংস্থান বাড়াতে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানায় সেনিটারি ন্যাপকিনের ভেন্ডিং মেশিন বসানোর পরিকল্পনার কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments