ডেক্স রিপোর্ট : ট্রেনের ভাড়া বৃদ্ধি করেছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে সিলেট- ঢাকা ও সিলেট- চট্টগ্রাম রেলপথের ভাড়া পূর্ব থেকে বেশি ছিলো। কিন্তু এ অঞ্চলের যাত্রীদের কোন তীব্র প্রতিবাদ না থাকায় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল কর্তৃপক্ষ বিমাতা সুলভ আচরণ করে আসছে। একটু খোঁজ নিলেই দেখা যাবে কুমিল্লা, আখাউড়া, ব্রাম্মণবাড়িয়া,ফেনি স্টেশন থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম ভাড়া তুলনামূলক অনেক কম। তারপরও প্রতিদিন সেইসব এলাকা থেকে হাজার হাজার যাত্রী দাপটের সাথে বিনা টিকেটে রেল ভ্রমণ করছে, সেগুলো দেখার কেউ নেই।
শুধু বিলাসবহুল প্রাইভেট বাস সার্ভিসকে আর্থিক সুবিধা পাইয়ে দিতে বিগত সরকারগুলো ও দূর্নীতিবাজ আমলারা নানাভাবে সিলেট অঞ্চলের যাত্রীদের বঞ্চিত করে আসছে। যুগের পর যুগ আখাউড়া- সিলেট সেকশনে রেল লাইন, সেতু-কালভার্ট জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পুরানো রেল ইঞ্জিন ও বগী দিয়ে চলছে এ অঞ্চলের রেলসেবা। তার সাথে রয়েছে তীব্র টিকেট সংকটের সমস্যা। শুধু আখাউড়া থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী কম গুরুত্বপূর্ণ গঙ্গা সাগর, কসবা, সালদানদী, মন্দবাগ রেল স্টেশনগুলো যেভাবে আধুনিকায়ন করা হয়েছে তা সিলেট-আখাউড়া সেকশনের এ.ক্লাস বি. ক্লাস স্টেশন আধুনিকায়ন করা হয়নি।
এবার রেল কর্তৃপক্ষ সরাসরি টিকিটের দাম না বাড়িয়ে পন্টেজ চার্জ বা মাশুল আরোপের মাধ্যমে নতুন কৌশুলে ভাড়া বৃদ্ধি করছে। এতে ট্রেন ও আসনভেদে সর্বনিম্ন ৫ থেকে সর্বোচ্চ ২২৬ টাকা বাড়বে। এ ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে ২০ ডিসেম্বর থেকে।
রেলওয়ের ভাষায় রেলপথের মধ্যে কোনো সেতু বা সমজাতীয় অবকাঠামো পড়লে ভাড়ার সঙ্গে যে বাড়তি মাশুল নির্ধারণ করা হয়, তা–ই ‘পন্টেজ চার্জ’। সে ক্ষেত্রে ১০০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুকে আড়াই কিলোমিটার দূরত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ফলে পথের দূরত্ব কাগজে-কলমে বেড়ে যাবে। আর সেই অনুপাতেই মাশুল আরোপ করা হয়েছে।
অথচ পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ব্রডগেজ লাইনে নতুন রেল ইঞ্জিন ও বগী দিয়ে আধুনিক সেবা দিয়েও ভাড়া বৃদ্ধির চেষ্ঠা করছেন না। সেখানে পন্টেজ চার্জ বা মাশুল আরোপের মাধ্যমে ভাড়া বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়নি রেলওয়ে বিভাগ।
জানা যায়, রেলের আয় বাড়াতে চলতি বছরের মে মাসে এভাবে পন্টেজ চার্জ বা মাশুল আরোপের মাধ্যমে ভাড়া বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল। যাচাই-বাছাই ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে ডিসেম্বরে। সাধারণ ট্রেন ও বিরতিহীন আন্তনগর ট্রেনের জন্য আলাদা করে ভাড়া নির্ধারণ করেছে রেলওয়ে। ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট-ময়মনসিংহ বিভাগ নিয়ে গঠিত রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল।
লোকসান সামাল দিতে আয় বৃদ্ধি ও ব্যয় হ্রাস নিয়ে গত ২৫ মে রেলওয়ের মহাপরিচালকের কার্যালয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় প্রধান অতিথি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম টিকিটের ভাড়া না বাড়িয়ে আয় বৃদ্ধির পরামর্শ দেন। তিনি রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের ১০০ মিটারের বেশি লম্বা সেতুতে পন্টেজ চার্জ সমন্বয়ের জন্য নির্দেশনা দেন। এর পর থেকে কাজ শুরু করে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের বাণিজ্যিক বিভাগ। রেলওয়ে সর্বশেষ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ট্রেনের ভাড়া বৃদ্ধি করেছিল।
রেলওয়ে সূত্র জানা যায় , গত ২৫ নভেম্বর রেলের উপপরিচালক (মার্কেটিং) শাহ আলম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে নতুন ভাড়া ২০ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তাকে এ চিঠি দেওয়া হয়। এরপর ৮ ডিসেম্বর সহকারী প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া এ চিঠি কার্যকর এ জনস্বার্থে প্রচারের জন্য অনুমোদন করেন। পূর্বাঞ্চলে সর্বনিম্ন ভাড়া বাড়ছে ৫ টাকা আর সর্বোচ্চ ২২৬ টাকা।
রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার ছয়টি রুটে ১১টি সেতুতে পন্টেজ চার্জ আরোপ করা হচ্ছে। এগুলো হলো ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-কক্সবাজার, ঢাকা-সিলেট, চট্টগ্রাম-সিলেট, চট্টগ্রাম-জামালপুর ও ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ।
ঢাকা-সিলেট রুটে মেইল ট্রেনের ভাড়া ১২৫ থেকে বেড়ে ১৪০ টাকা হয়েছে। কমিউটার ট্রেনের ভাড়া ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা করা হয়েছে। শোভন চেয়ারের ভাড়া ৩৫ টাকা বাড়িয়ে ৪১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। স্নিগ্ধা আসনের ভাড়া বর্তমানে ৭১৯ টাকা হলেও নতুন ভাড়া হবে ৭৮৮ টাকা। এসি সিটের ভাড়া ৮৬৩ টাকার জায়গায় এখন হবে ৯৪৩ টাকা। এসি বার্থের ভাড়া ১২৭ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৪৬৫ হয়েছে।
চট্টগ্রাম-সিলেট রুটে স্নিগ্ধা আসনের ভাড়া ৮৫৭ টাকার জায়গায় দিতে হবে ৯০৯ টাকা। শোভন চেয়ারের ভাড়া বেড়েছে ২৫ টাকা। প্রথম বার্থের ভাড়া ১ হাজার ৮০ থেকে ১ হাজার ১৩৭ টাকা করা হয়েছে। এসি সিটের ভাড়া ১ হাজার ৩০ থেকে ১ হাজার ৮৭ টাকা হয়েছে। এসি বার্থের ভাড়া বেড়েছে ৮৭ টাকা। আগে ছিল ১ হাজার ৫৯১ টাকা, এখন দিতে হবে ১ হাজার ৬৭৮ টাকা।
রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পন্টেজ চার্জ আরোপের মাধ্যমে এ ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। তবে সব রুটে ভাড়া বাড়ছে না। কিছু রুটে ভাড়া বাড়ছে। আবার যে ভাড়া বেড়েছে, তা খুব বেশি নয়।
প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, পুরোনো যেসব সেতু আছে (১০০ মিটারের বেশি) সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের জন্য এ ভাড়া বৃদ্ধি করা হচ্ছে ।


