Wednesday, October 21, 2026
Homeমৌলভীবাজার জেলাকমলগঞ্জবাবার সীমিত আয়ে অংকনের ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন কি পূরণ হবে?

বাবার সীমিত আয়ে অংকনের ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন কি পূরণ হবে?

কমলগঞ্জ  প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার কালীপ্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে অংকন শর্ম্মা গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। বাবার সীমিত আয়ে টানাপোড়েন সংসারে ১২৫০ এর মধ্যে ১২০০ মার্ক পেয়ে অদম্য মেধার স্বাক্ষর রেখেছে অংকন শর্ম্মা। তবে ভ্রাম্যমান সঙ্গীত শিল্পী বাবার সীমিত আয়ে অংকনের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন বাবা।
দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির সময়ে সীমিত আয় দিয়ে একটি পরিবারের ভরন পোষন চালিয়ে যাওয়া খুবই কঠিন। তবে অভাবের মধ্যেও মেধার এমন স্বীকৃতিতে মা-বাবার মুখে সাময়িক হাসি ফুটলেও, সামনে এসে দাঁড়িয়েছে এক কঠিন অনিশ্চয়তা। ভালো কলেজে ভর্তি করানোর সামর্থ্য না থাকায় এই অদম্য মেধাবীর বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন কি অধরাই থেকে যাবে-এমন বাস্তবতা নিয়ে চিন্তিত অংকনের মা-বাবা।
অংকন শর্ম্মা কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের ধীতেশ্বর গ্রামের ভ্রাম্যমান সঙ্গীত শিল্পী অমলেশ চন্দ্র শর্ম্মা ও প্রিয়াংকা চক্রবর্তী দম্পতির সন্তান। তার এমন ফলাফল পরিবারসহ পুরো বিদ্যালয়ের মুখ উজ্জ্বল করেছে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুই ভাইয়ের মধ্যে অংকন বড়। মা, বাবা ও স্কুল শিক্ষকের সহযোগিতায় পড়াশোনায় সে এসএসসি পরীক্ষায় এই সাফল্য লাভ করে।
নিজের সাফল্যের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে অংকন শর্ম্মা বলেন, ‘আমি প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা পড়াশোনা করেছি। আমি কখনো মোবাইল ফোন ব্যবহার করিনি। বাবা-মার ত্যাগের পাশাপাশি কালিপ্রশাস উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবদান আমি কোনোদিন ভুলব না। বাবা কষ্ট দেখে সঙ্গীত শিল্পী হিসাবে যেটুকু আয় করেন তা দিয়েই আমার পড়ালেখার খরচ যুগিয়েছেন। আমার ইচ্ছে একজন ভালো বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। তবে বাবার সীমিত আয়ে তা কতটা সম্ভব হবে সেটিই একমাত্র চিন্তা।’
অংকনের বাবা অমলেশ শম্মা বলেন, ‘চার সদস্যের পরিবারে আমি একাই উপার্জন করি। বর্তমান সময়ে দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির কারনে সীমিত আয় দিয়ে সংসার চালানোই কঠিন। তার উপর ছেলেদের পড়াশোনার খরচ চালিয়ে যাওয়া আসলেও দুর্বিষহ। অংকনের ফলাফলে আমরা খুবই খুশি। তবে ভালো কলেজে ভর্তি করানো আর বই-খাতা কিনে দেয়াটাও চ্যালেঞ্জ।’
কালীপ্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সত্যেন্দ্র কুমার পাল অদম্য মেধাবী অংকনের প্রশংসা করে বলেন, সে অত্যন্ত মেধাবী, ন¤্র ও অধ্যবসায়ী একটি ছেলে। সে যে একাগ্রতা দেখিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তার এই সাফল্য আমাদের পুরো বিদ্যালয়ের গৌরব। বিদ্যালয়ে ৬টি জিপিএ-৫ এর মধ্যে একমাত্র অংকনই গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা পেলে অংকনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments