Wednesday, October 21, 2026
Homeমৌলভীবাজার জেলাকুলাউড়ালোডশেডিংয়ে নাকাল কুলাউড়ার জনজীবন,চরম দুর্ভোগে মানুষ

লোডশেডিংয়ে নাকাল কুলাউড়ার জনজীবন,চরম দুর্ভোগে মানুষ

কুলাউড়া প্রতিনিধি: প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিং ও বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার ভেলকিবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে কুলাউড়া উপজেলার জনজীবন।

দিনের পাশাপাশি রাতেও বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন শিশু ও বৃদ্ধরা। বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়িতে পানি ওঠানোর মোটর চালানো যাচ্ছে না। দেখা দিয়েছে পানির সংকট। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজ ও ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষিত মাছ-মাংস, দুধ, আইসক্রিমসহ বিভিন্ন খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কখন বিদ্যুৎ থাকবে আর কখন চলে যাবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। কিছুক্ষণ পরপর বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে ঘরে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে একদিকে ঘুমের ব্যাঘাত, অন্যদিকে মশার উপদ্রব সব মিলিয়ে নাকাল হতে হচ্ছে মানুষকে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব পড়েছে কুলাউড়ার ব্যবসা-বাণিজ্যেও। দোকানপাট, শপিংমল, রেস্টুরেন্ট, বেকারি, মিষ্টির দোকান, ফার্মেসি, ফটোকপি ও কম্পিউটার ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানসহ বিদ্যুৎনির্ভর প্রায় সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেই ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক কার্যক্রম। বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানের ফ্যান, লাইট, কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফটোকপি মেশিনসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চালানো যাচ্ছে না।

রেস্টুরেন্ট, হোটেল, মিষ্টির দোকান ও বিভিন্ন খাবারের ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ আরও বেশি। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে ফ্রিজ ও ডিপ ফ্রিজ ঠিকমতো কাজ না করায় সংরক্ষিত খাবার নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে ব্যবসায়ীদের একদিকে পণ্য নষ্ট হওয়ার ক্ষতি, অন্যদিকে বিক্রি কমে যাওয়ার ক্ষতি দুই দিকই সামলাতে হচ্ছে। ছোট ব্যবসায়ীদের অনেকেরই জেনারেটর, আইপিএস মতো বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ব্যবহারের সামর্থ্য নেই।

বিদ্যুৎ না থাকায় পানি সংকটও তীব্র হচ্ছে। কুলাউড়ার অনেক বাসাবাড়িতে পানি ওঠানোর জন্য বৈদ্যুতিক মোটরের ওপর নির্ভর করতে হয়। বিদ্যুৎ চলে গেলে মোটর চালানো সম্ভব হয় না। ফলে রান্না, গোসল, কাপড় ধোয়া ও অন্যান্য দৈনন্দিন কাজে প্রয়োজনীয় পানি সংগ্রহ করতে গিয়ে বাড়তি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বাসিন্দাদের।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments