নিজস্ব প্রতিবেদক : মৌলভীবাজারের কুলাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে ঢাকাগামী জয়ন্তিকা ট্রেনে যাত্রীদের টিকেট ও এনআইডির পরীক্ষা করে মিল না পাওয়ায় তিন যাত্রীকে ১ হাজার ৯২০ টাকা জরিমানা করে তা আদায় করা হয়।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে কুলাউড়া স্টেশনে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনিসুল ইসলাম।
সহকারী কমিশনার এ প্রতিবেদককে সোমবার রাতে জানান, “এনআইডি যার টিকেট তার” নীতি বাস্তবায়নের জন্য কুলাউড়া রেল স্টেশন ঢাকাগামী জয়ন্তিকা ট্রেনে অভিযান চালানো হয়েছে।
অভিযানে টিকেটের সাথে এনআইডির মিল না পাওয়ায় তিনজন যাত্রীকে ১ হাজার ৯২০ টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযান চলাকালে কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার রোমান আহমদ ও রেলওয়ে থানার পুলিশ সহযোগিতা করেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনিসুল ইসলাম বলেন, যাত্রীরা নিজের আইডি ব্যবহার করে টিকেট কেটে যাতে রেল ভ্রমণে সচেতন হন সেজন্য এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তবে জয়ন্তিকা ট্রেনে যাত্রী সিরাজুল ইসলাম ও রিয়াজুল ইসলাম বলেন, টিকেট কালোবাজারি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোন ব্যবস্থা না নিয়ে অযথা যাত্রীদেরকে টিকেটের মূল্যের দ্বিগুণ জরিমানা করে লোক দেখানোর দায়িত্ব পালন করছেন। এভাবে কি টিকেট কালোবাজারি সিন্ডিকেট ভাঙ্গা যাবে? এধরণের অভিযান শেষ হলে তারা আবারও কালোবাজারি করবে। কোন যাত্রী কি স্বেচ্ছায় দ্বিগুণ তিনগুণ ভাড়া দিয়ে কালোবাজারি থেকে টিকেট কেটে ট্রেনে ওঠে আবার জরিমানা দিবেন?
তারা আরও বলেন, শুধু যাত্রীদের ধরে জরিমানা করে সমস্যার সমাধান হবে না। যদি প্রশাসন আন্তরিকভাবে চান টিকেট কালোবাজারি বন্ধ হউক তাহলে চক্রের মূলহোতাদের ধরার চেষ্টা করতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এটা সাধারণ জনগণ চায়। তবে জনগণের মনের ভাষা না বুঝে নিরিহ যাত্রীদেরকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে না। অপরাধের মূলে আঘাত না করে যাত্রী হয়রানি করে প্রশাসনের এধরণের চেষ্টা বৃথা হবে। শেষমেষ ফলাফল শূন্য হবে। অন্যের এনআইডি দিয়ে কেনা টিকেট নিয়ে সেই এনআইডি সনাক্ত করে কালোবাজারি চক্রকে ধরতে হবে।
তবে অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনিসুল ইসলাম বলেন, আমরা অন্যের এনআইডি দিয়ে কেনা টিকেট এনআইডি সনাক্ত করার জন্য রেলওয়ে ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে দিয়ে এসেছি। আশাকরি চক্রটিকে ধরা যাবে। আর কালোবাজারি চক্র থেকে যাত্রীরা যাতে ভবিষ্যতে টিকেট ক্রয় না করেন সে জন্য অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ট্রেনের যাত্রীরা কালোবাজারি চক্র থেকে টিকেট না কিনলে ধীরে ধীরে এই চক্রের অপতৎপরতা কমে আসবে।


