Wednesday, October 21, 2026
Homeঅন্যান্যপ্রবাসইরানের ড্রোন হামলায় নিহত : মৃত্যুর আগে ভাইদের সাথে কথা বলেছিলেন বড়লেখার...

ইরানের ড্রোন হামলায় নিহত : মৃত্যুর আগে ভাইদের সাথে কথা বলেছিলেন বড়লেখার সালেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাত ১০টার দিকে ভাইদের সাথে কথা বলছিলেন সালেহ। ভাই, স্ত্রী, সন্তানের সাথে আর কখনো কথা বলা হবে না বড়লেখার সালেহ আহমদের। ভাইদের সাথে কথা বলার পরই দুবাইয়ে ইরানের বোমা হামলায় সালেহ আহমদ নিহত হন।
৩৫ বছর ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে থাকেন মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সালেহ আহমদ। দেশে এই নামেই তিনি পরিচিত। তবে প্রবাসে তাঁর নাম আহমদ আলী। গত বছর শেষবার দেশে এসেছিলেন। চার মাস আগে আবার দুবাইয়ে ফিরে যান। তাঁর আর কখনোই জীবিত অবস্থায় দেশে ফেরা হবে না।
শনিবার রাত ১০টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর ব্যাপারে প্রথম খবর পান। তবে পরে কফিলের (দুবাইয়ে চাকরিদাতা) মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হন। হামলার পর দুবাইয়ের সেনাবাহিনী তাঁকে হাসপাতালে নেয়, সেখানে তাঁর মরদেহ রাখা আছে। ঘটনার আগে তিনি ভাইদের কাছে একটি ভয়েস বার্তা পাঠিয়েছিলেন। ভাইদের মুঠোফোনে ভয়েস রেকর্ড পাঠিয়ে বলেছিলেন, রাত ১০টার দিকে তাদের সঙ্গে আলাপ করবেন। কিন্তু তার আগেই বোমা হামলায় তিনি মারা যান।
সালেহ আহমদের বাড়ি বড়লেখার গাজিটেকা (বাঁশতলা) গ্রামে। তাঁর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ইফতারের পর কোনো এক সময় ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র তাঁর গাড়িতে আঘাত করলে তিনি মারা যান। তিনি দুবাইয়ের আজমান শহরে পানির ট্যাংকার চালাতেন। হামলার সময় তিনি পানি সরবরাহের জন্য গাড়ি নিয়ে পথে বের হয়েছিলেন। ওই শহরে তাঁর ছোট দুই ভাই জাকির হোসেন ও বোরহান আহমদও থাকেন। তাঁরাই সালেহ আহমদের মৃত্যুর খবর পরিবারকে জানিয়েছেন।
সালেহর ছোট ভাই জাকির হোসেনের স্ত্রী শেলি বেগম গতকাল রোববার জানান, গত বছর তাঁর ভাশুর দেশে এসেছিলেন। প্রায় চার মাস আগে দুবাই ফিরে যান। ২৭ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) সবশেষ দেশে তিনি স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। পরের দিন শনিবার রাতে তারাা তার মৃত্যুসংবাদ পান।
শেলি বেগম বলেন, শনিবার রাত ১০টার দিকে প্রথম তাঁরা খবর পান যে সালেহ আহমদ বোমা হামলায় মারা গেছেন। কিন্তু পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারছিলেন না। আজমান শহরে থাকা সালেহর দুই ভাই সেখানকার হাসপাতালে যান। তবে তাঁরা ভাইকে দেখার সুযোগ পাননি।
দুই ভাই পরিবারের সদস্যদের জানান, গাড়িতে বোমা হামলার পরপরই দুবাইয়ের সেনাবাহিনীর সদস্যরা সালেহকে হাসপাতালে নিয়ে যান। তাঁরা কফিলের মাধ্যমে সালেহ আহমদের মৃত্যুর বিষয় সম্পর্কে নিশ্চিত হন। তাঁর লাশ হাসপাতালে রাখা আছে।
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান বলেন, পুলিশ সালেহ আহমদের বাড়িতে গিয়েছিল। পরিবারের সূত্রে মৃত্যুর বিষয়টি সম্পর্কে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। সালেহ আহমদের স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে আছেন। তাঁরা সবাই দেশে থাকেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments