Wednesday, October 21, 2026
Homeআন্তর্জাতিকআমার আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই- ট্রাম্প

আমার আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই- ট্রাম্প

ডেক্স রিপোর্ট : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার আগ্রাসী বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন মানার বাধ্যবাধকতা তিনি অনুভব করেন না। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তার সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে তার নিজস্ব নৈতিকতা দ্বারা। আন্তর্জাতিক আইন মানা না মানার বিষয়টি তার ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমার আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই। আমি মানুষের ক্ষতি করতে চাই না।”

এই মন্তব্য এসেছে ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে। গত শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। অভিযানের একপর্যায়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে দেশটির বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানানো হয়।

সমালোচকদের মতে, এ ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপ জাতিসংঘ সনদের পরিপন্থী, যেখানে কোনো রাষ্ট্রের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ নিষিদ্ধ।

হামলার পর ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার শাসনব্যবস্থায় প্রভাব রাখবে এবং দেশটির বিপুল তেলসম্পদ কাজে লাগাবে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তারা অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে কাজ করবে, তবে একই সঙ্গে নীতিনির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা থাকবে। ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দেন, মার্কিন নির্দেশনা উপেক্ষা করা হলে দ্বিতীয় দফা সামরিক হামলা চালানো হতে পারে।

ভেনেজুয়েলার পাশাপাশি ট্রাম্প কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর বিরুদ্ধেও সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন। একই সঙ্গে ডেনমার্কের অধীন গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রচেষ্টাও জোরদার করেছেন তিনি। এর আগে জুন মাসে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দেশটির তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার নির্দেশ দেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। জাতিসংঘের বিচারক ও আইনজীবীদের স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক মার্গারেট স্যাটারথওয়েট সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করা অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং এটি বিশ্বকে আবার ‘সাম্রাজ্যবাদের যুগে’ ফিরিয়ে নিতে পারে। তার মতে, এতে অন্যান্য শক্তিধর রাষ্ট্রও আগ্রাসী নীতি গ্রহণে উৎসাহিত হতে পারে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments