নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের জেলা প্রশাসক মো.সারওয়ার আলম ঘোষণা দিয়েছিলেন, শুক্রবার ২৪ অক্টোবর থেকে সিলেট থেকে একজনের টিকিটে আরেকজন ট্রেনে ভ্রমণ করতে পাবেন না। ট্রেন ভ্রমণের সময় যাত্রীর এনআইডি কার্ড সাথে রাখতে হবে। সেই ধারাবাহিকতায় মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসকের নির্দেশে কুলাউড়া রেলওয়ে ষ্টেশনে শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) ইউএনও মো. মহিউদ্দিন যাত্রীদের টিকেট ও এনআইডি পরীক্ষা করেন।
এর আগে (১৯অক্টোবর) বিকেলে কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে বিকাল ৫ টায় ঢাকাগামী পারাবাত এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রীদের ‘এন আইডি যার টিকেট তার’ এর আওতায় যাত্রীদের টিকেট পরীক্ষা করা হয়। এসময় টিকেট কালোবাজারিদের রুখতে সহকারি কমিশনার ভূমি কুলাউড়া স্টেশনে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে দুইজন যাত্রীকে ১২০০/ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল।
সিলেটের জেলা প্রশাসকের ঘোষণা অনুযায়ী শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) থেকে সিলেটে টিকিট তদারকি করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। সকাল থেকে রেল স্টেশনে এসে ট্রেন যাত্রীদের টিকিট ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি কার্ড) চেক করেন।
টিকিটের নামের সাথে যাত্রীর নামের মিল না থাকা ও সাথে এনআইডি কার্ড না থাকায় ২০ যাত্রীকে জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।
জানা যায়, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলি রানী দেব ও শিহাব সারোয়ার অভি সিলেট রেল স্টেশনে ট্রেনে যাওয়া আসা করা যাত্রীদের টিকিট ও এনআইডি কার্ড চেক করেন। এসময় রেল কর্মী, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা তাদের সঙ্গে ছিলেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিহাব সারোয়ার অভি জানান, টিকেটের সাথে যাত্রীর নামের মিল না থাকা ও যাত্রীর সাথে এনআইডি কার্ড না থাকায় ২০ জনকে জরিমানা করা হয়েছে। প্রত্যেককে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
তবে এত কিছুর পারও যাত্রীরা ‘রেল সেবা’ অন লাইনে নিজেদের নামে টিকেট ক্রয় করতে পারছেন না। অন- লাইনে ঢুকে দেখা যাচ্ছে সব টিকেট বিক্রি হয়ে গেছে। ঢাকা যাওয়ার যাত্রী শফিকুর রহমান ও পারভেজ শনিবার(২৫অক্টোবর) দুপুরে কুলাউড়া ষ্টেশনে এই প্রতিবেদককে বলেন, গত ৭দিন ধরে ঢাকা যাওয়ার টিকেট খোঁজ করে পাইনি। এখন বিশেষ প্রয়োজনে যেতে হচ্ছে তাই দ্বিগুণ দামে টিকেট নিয়ে যাচ্ছি।
পথে বা গন্তব্য ষ্টেশনে যদি ভ্রাম্যমান আদালত ধরে তখন কি বলবেন? এ প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমরা তো নিরিহ মানুষ টিকেটও নিলাম দ্বিগুণ দামে, এখন ভ্রাম্যমান আদালত ধরে জরিমানা করলে তাও গুণতে হবে কি আর করবো?
চট্টগ্রামগামী সামিমা আক্তার ও তার স্বামী হারুন মিয়া আক্ষেপ করে বলেন- ভাই আমাদের সমস্য কে বুঝবে? আমরা তো ‘বলির পাঠার মতো’ যেভাবে কাটবে সেইভাবে সব কিছু মানতে হবে। দূর্নীতির মূলে না গিয়ে যাত্রীদের জবাই করা হচ্ছে।


