Wednesday, October 21, 2026
Homeমৌলভীবাজার জেলাকুলাউড়া১২ নভেম্বর থেকে শুরু ইউপি নির্বাচন, হবে ৭ ধাপে

১২ নভেম্বর থেকে শুরু ইউপি নির্বাচন, হবে ৭ ধাপে

ডেক্স রিপোর্ট : স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন ৭ ধাপে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন, যার প্রথম ধাপ হবে ১২ নভেম্বর। সোমবার নির্বাচন কমিশনে বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন ইসি সকালে কমিশন সভা করেন। পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন এ নির্বাচন কমিশনার।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন নিয়ে প্রাক প্রস্তুতি মূলক সভা করেছি। সাত ধাপে ভোট করার প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিকালে নির্বাচন ভবনে ব্রিফিংয়ে এ নির্বাচন কমিশনার জানান, সাড়ে চার হাজার ইউপির মধ্যে ৭ ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, প্রথম ধাপ ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, ৩য় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর। ৪র্থ ধাপ আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, ৫ম ধাপ আগামী বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি, ৬ষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং ৭ম ধাপ ২৭ মে।

প্রথম ধাপে ৮০ উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে বলে জানান এ নির্বাচন কমিশনার।

ভোটের সম্ভাব্য সময় জানালেও নির্বাচন কমিশনার আনুষ্ঠানিকভাবে তফসিল ঘোষণা করবে ইসি।

এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছিলেন, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকারের ভোটগ্রহণ শুরু হবে। চলতি মাসেই এ নির্বাচনের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে।

আনোয়ারুল ইসলাম সরকার আরও জানিয়েছিলেন, ‘আমরা আশা করছি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়েই স্থানীয় সরকারের নির্বাচন শুরু হবে। ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন একটা পর্যায়ে গেলে আমরা সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো করব।’

ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের তফসিল কবে হবে- সে বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এই মাসের মধ্যেই আপনারা অনেক কিছু দেখবেন এবং অনেক কিছুই আমরা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারব। আমাদের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ খুব দ্রুত গতিতে চলছে।’ এ নির্বাচনের তফসিল এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে জানানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বার্ষিক, বৃত্তি ও টেস্ট পরীক্ষাসহ নানা ব্যস্ততা থাকে। ভোটকেন্দ্র হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহৃত হয় এবং শিক্ষকরাই প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন। তাই পরীক্ষার সময়গুলো বাদ দিয়ে, আগে বা পরে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। তবে আইনি বাধ্যবাধকতা থাকা নির্বাচনগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা এবার আরও সাহসী পদক্ষেপ নিচ্ছি। সব ভোটকেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মুভমেন্ট দ্রুত করতে ড্রোন ব্যবহারের পাশাপাশি বডি-ওর্ন ক্যামেরার সংখ্যা বাড়ানো হবে। এছাড়া অপতথ্যের ঝুঁকি মোকাবিলাতেও আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।

আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো এবারও আচরণবিধিতে কিছু কড়াকড়ি থাকছে। ভিআইপিরা যেন সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে না পারেন, সেটির বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া পচনশীল নয় এমন দ্রব্য বা পোস্টারের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যেই এ সংক্রান্ত সংশোধিত আচরণবিধির প্রজ্ঞাপন জারি হবে।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশ নিলে সহকর্মীরা তার পক্ষে কাজ করেন, যা ভোটকেন্দ্রে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দেয়। শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত রাখতে এবং শিক্ষকদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে তারা যেন নির্বাচনে অংশ না নেন, এমন একটি পর্যবেক্ষণ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে ইসি।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments