Wednesday, October 21, 2026
Homeসিলেটমৌলভীবাজার জেলামৌলভীবাজার মুক্ত দিবসে গণকবরে শ্রদ্ধা ও জেলা প্রশাসনের আলোচনা সভা

মৌলভীবাজার মুক্ত দিবসে গণকবরে শ্রদ্ধা ও জেলা প্রশাসনের আলোচনা সভা

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের ঐতিহাসিক বিজয় আর উল্লাসের দিন ছিলো আজ সোমবার ৮ ডিসেম্বর। এইদিনে পাক হানাদারদের পরাজিত করে মৌলভীবাজারকে মুক্ত ঘোষণা করেন স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা। একাত্তরের এই দিনে মৌলভীবাজার শহর তথা জেলার সর্বত্র স্বাধীন বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকা বাতাসে উড়তে থাকে। পাক হানাদার বাহিনীকে হটিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা শত্রু মুক্ত এলাকা হিসেবে মৌলভীবাজারকে ঘোষণা করেন।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে স্থানীয় শহীদ মিনার ও শাহ মোস্তফা সড়কের গণকবরে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে জেলা প্রশাসক হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) তানভীর হোসেন এর সঞ্চালনায় আলোচনা সভা সভাপতিত্ব করেন- জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন,পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন। আলোচনা সভায়,মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
৪ ডিসেম্বর জেলার কমলগঞ্জ উপজেলা প্রথম শত্রুমুক্ত হয়। ৫ ডিসেম্বর জেলার সর্বত্র শুরু হয় আক্রমণের পর আক্রমণ। জেলার চারদিক দিকে মুক্তি ও মিত্রবাহিনীর যৌথ আক্রমণে একের পর এক এলাকা শত্রুমুক্ত হতে থাকে। ৫ ও ৬ ডিসেম্বর দুই দিনে মুক্তিযোদ্ধারা কুলাউড়া, রাজনগর, শ্রীমঙ্গল ও মুন্সীবাজার এলাকা মুক্ত করে মৌলভীবাজার শহর অভিমুখে আসতে অভিযান শুরু করেন। ৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর মিত্র ও মুক্তিবাহিনী শহর ঘেরাও করে। এখানে মহকুমা হেড কোয়ার্টার থাকার কারণে পাকবাহিনীর ব্রিগেড হেড কোয়ার্টার ছিল।

জানা যায়, জেড ফোর্সের ১৭টি ইউনিটের মধ্যে জব্বার (কুলাউড়ার সাবেক এমপি) ও মুহিবের নেতৃত্বে ২টি ইউনিট কুলাউড়ার দিকে গেলেও বাকি ১৫ টি ইউনিট নিয়ে তারা মৌলভীবাজার শহরে ঢুকার চেষ্টা শুরু করেন। তুমুল যুদ্ধ আর অনেক হতাহতের পর ৭ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার পুরো মহকুমা এলাকা থেকে পাকবাহিনীকে হটিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা শহরে ঢুকে পড়েন। কিন্তু শহরের বিভিন্ন স্থানে পাকবাহিনী প্রচুর মাইনসহ অস্ত্র পুঁতে রাখায় রাস্ত থেকে এগুলো অপসারণ ও নিষ্ক্রিয় করার পর ৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার মুক্ত এলাকা ঘোষণা করা হয়।

অপরদিকে, মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে শহিদ মিনার ও গণকবরে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন মহোদয়। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বীর শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়ায় অংশ নেন এস.পিসহ জেলা পুলিশের সদস্যবৃন্দ। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আসিফ মহিউদ্দীন, পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা, পিপিএম অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খয়ের।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments