নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শুরু হচ্ছে। এবার মৌলভীবাজার জেলার ৭টি উপজেলায় ১ হাজার ২২টি পূজামণ্ডপে দেবী দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি মণ্ডপে চলছে দেবীদুর্গা বরণের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ঢাক, ঢোল, শঙ্খ আর উলুধ্বনির মধ্য দিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় মহাষষ্ঠীতে দেবীদুর্গাকে বরণ করে নেওয়ার অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন সনাতনী ভক্তরা।
জেলা পূজা উদযাপন কমিটি সুত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজার জেলায় এবার সার্বজনীন ৮৯৮টি এবং ব্যক্তিগত ১২৪টিসহ মোট ১ হাজার ২২টি পূজামন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সদরে ১১১টি, বড়লেখায় ১৪৬টি, জুড়িতে ৭৬টি, কুলাউড়ায় ২২৭টি, রাজনগরে ১৩৬টি, কমলগঞ্জে ১৫৪টি ও শ্রীমঙ্গলে ১৭২টি পূজা মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
কুলাউড়ায় শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থেকে মহাষষ্ঠী তিথিতে ২২৭টি মন্ডপে পূজার শুরু হবে বলে জানা গেছে।
আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে মহাষষ্ঠী পূজার মধ্যদিয়ে শুরু হবে পূজার মূল অনুষ্ঠানিকতা। আর ২১ অক্টোবর দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। ইতোমধ্যে জেলার প্রতিটি পূজা মন্ডপ এই উৎসব ঘিরে চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি।
কমলগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রণীত রঞ্জন দেবনাথ বলেন, সব জায়গায় শেষ সময়ের চলছে পূজার প্রস্তুতি। প্রতিটি পূজা মণ্ডপ সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য আয়োজকেরা বিরামহীনভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। পূজা উপলক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
মৌলভীবাজার জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মহিম দে বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা আয়োজনের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন প্রস্তুতি। জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করা হয়েছে।
দুর্গাপূজার সার্বিক বিষয়ে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম জানান, জেলার সব পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধসহ পূজা-পূর্ববর্তী, পূজাকালীন এবং প্রতিমা বিসর্জনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে করণীয় ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আমরা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি।


