Wednesday, October 21, 2026
Homeমৌলভীবাজার জেলাকুলাউড়াসীমান্তে গরু চোরাকারবারি চক্র সক্রিয়

সীমান্তে গরু চোরাকারবারি চক্র সক্রিয়

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে চোরাকারবারিদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। প্রতিদিনই কুলাউড়ার দত্তগ্রাম, লালারচকসহ বিভিন্ন সীমান্ত পথ দিয়ে অবৈধভাবে দেশে ঢুকছে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় গরু।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিজিবির তৎপরতায় বেশ কয়েকটি ভারতীয় গরুর চালান আটক হলেও প্রতিদিন চোরাই পথে অসংখ্য গরু বাংলাদেশে ঢুকছে। সম্প্রতি সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে পৃথক অভিযানে ১৯টি গরু আটক করেন বিজিবির সদস্যরা।

জানা যায়, কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা, পৃথিমপাশা, শরীফপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাদকসহ বিভিন্ন পণ্য চোরাচালান হয়ে আসছে। চোরাকারবারি চক্রের সিন্ডিকেটে জনপ্রতিনিধিসহ সীমান্তসংলগ্ন এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা রয়েছেন।

স্থানীয় দত্তগ্রাম এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, সীমান্তের বিভিন্ন পাহাড়ি টিলা ও নদীপথ দিয়ে রাতে কিংবা ভোরে গরুসহ বিভিন্ন পণ্য ও মাদক পাচার করছে চোরাচালানি সিন্ডিকেট। চোরাকারবারিরা কখনও সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া কেটে আবার কখনও কাঁটাতারের ওপর মই ব্যবহার করে চোরাইপণ্য পাচার করছে। এ ছাড়া ঈদ উপলক্ষে সম্প্রতি ভারতীয় গরুর চোরাচালান বেড়েছে। চোরাকারবারিরা শরীফপুর ইউনিয়নের চারিয়ার ঘাট, হাসারকোনা, কালারায়ের চর, নিশ্চিন্তপুর, চানপুর, বাগজুর, দত্তগ্রাম, লালারচক, কর্মধার গহিন পাহাড়, মুরইছড়া এলাকা, পৃথিমপাশার শিকড়িয়া, আলীনগর এলাকা দিয়ে গরু নিয়ে আসছে। এসব এলাকা চোরাচালানের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত।

বিজিবি সদস্যরা মাঝেমধ্যে চোরাইপথে আসা ভারতীয় গরু আটক করলেও স্থানীয় প্রভাবশালী ও জনপ্রতিনিধিরা বিজিবি ক্যাম্পে গিয়ে সুপারিশ করে গরুগুলো ছাড়িয়ে আনেন। অনেক সময় দেশি গরু বলে শনাক্ত করে জনপ্রতিনিধিরা বিজিবির কাছে সুপারিশ করে আটক গরু ছাড়িয়ে আনেন। এসব গরু স্থানীয় রবিরবাজার, ব্রাহ্মণবাজার ও কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে রসিদের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়।

শরীফপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জয়নুল ইসলাম বলেন, ভারতীয় গরু দেশে ঢুকছে এটা ঠিক। তবে সীমান্তবর্তী গ্রামের অনেক কৃষকের গরু ভারতীয় গরু বলে সন্দেহমূলকভাবে আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যায় বিজিবি। পরে এলাকার লোকজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে সুপারিশ করতে বলেন।

শ্রীমঙ্গল ৪৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে সীমান্তের জিরো লাইনের পাশে বিজিবির একাধিক চেকপোস্ট বসিয়ে টহল জোরদার করা হয়েছে। সম্প্রতি বিজিবির পৃথক অভিযানে কুলাউড়ার দত্তগ্রাম ও লালারচক সীমান্ত এলাকা থেকে ১৯টি ভারতীয় গরু আটক করে নিলামে বিক্রি করা হয়েছে।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান মোল্যা বলেন, ঈদ সামনে রেখে সীমান্ত এলাকায় পুলিশের নজরদারি অনেক বাড়ানো হয়েছে। চোরাকারবারিদের ধরতে পুলিশি টহল ও সড়কে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments