Wednesday, October 21, 2026
Homeসিলেটমৌলভীবাজার জেলাসিলেটে মন্ত্রীর বাসায় বিএনপির কার্যালয়: দাওয়াত পাননি কাইয়ুম-লোদীসহ অনেক নেতা

সিলেটে মন্ত্রীর বাসায় বিএনপির কার্যালয়: দাওয়াত পাননি কাইয়ুম-লোদীসহ অনেক নেতা

ডেক্স রিপোর্ট : সিলেট মহানগর বিএনপির নিজস্ব কার্যালয়ের উদ্বোধন হয়েছে মঙ্গলবার। নগরের কাজির বাজার এলাকায় সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের বাসায় এই কার্যলয়ের যাত্রা শুরু হয়।

মঙ্গলবার সকালে বাণিজ্যমন্ত্রী উপস্থিত থেকে এ কার্যালয় উদ্বোধন করেন। তবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দলের অনেকে নেতা আমন্ত্রণ পাননি বলে অভিযোগ ওঠেছে। বিশেষত তিনজন সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর দাওয়াত না পাওয়া নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। তারা তিনজন স্থানীয় বিএনপিরও শীর্ষ পর্যায়ের নেতা।

মঙ্গলবার দুপুরে নগরের তোপখানা এলাকায় সিলেট-১ (নগর ও সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির কার্যালয়টির উদ্বোধন করেন।

বিএনপির সিলেট মহানগর এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের একাধিক জানান, সামনে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে মহানগর বিএনপির সভাপতি নাছিম হোসেইন ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন। তাদের বাইরে আরও যেসব গুরুত্বপূর্ণ নেতা মেয়র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন, তাদের কেউই দাওয়াত পাননি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কার্যালয়ের উদ্বোধনী পর্বে দাওয়াত পাননি সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সদ্য বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ সিদ্দিকী। তারা তিনজনই সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন।

যোগাযোগ করলে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী উদ্বোধনী পর্বে দাওয়াত পাননি জানিয়ে বলেন, ‘এ নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’ অন্যদিকে রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, ‘মহানগরের কার্যালয়ের উদ্বোধনী পর্বে আমাকে দাওয়াতটুকু পর্যন্ত দেওয়ার প্রয়োজনবোধ করেননি বর্তমান দায়িত্বশীলরা। এতে সমস্যা নেই। দুঃসময়ে দলের সাথেই ছিলাম, বর্তমানেও আছি, ভবিষ্যতেও থাকব।’

স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা জানান, সিলেট বিএনপিতে প্রকাশ্যে বিভেদ না দেখালেও আড়ালে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এবং প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর দুটি পৃথক বলয় আছে। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর উভয় বলয়ে ‘মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব বাড়ার পাশাপাশি ‘ঠান্ডা লড়াই’ চলছে। এ দুটি বলয়ের মধ্যে আবার বেশ কয়েকটি উপবলয় আছে। ওই উপবলয়ের একাধিক প্রভাবশালী নেতা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হতে চান। মূলত সেই প্রতিযোগিতা থেকে প্রায়ই উপবলয়ের নেতারা একে অন্যকে কোণঠাসা করতে ব্যস্ত থাকেন। সেসব ঘটনা নানা সময়ে দলের ভেতরে-বাইরে আলোচনারও জন্ম দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহানগর বিএনপির এক নেতা বলেন, সিলেটে জেলা কিংবা মহানগর বিএনপি কিছুদিন আগেও একত্রে সব কর্মসূচি পালন করত। যদি কোনো কর্মসূচি শাখা দুটি পৃথকভাবে করত, তাহলে একে অন্যকে দাওয়াত দেওয়ার রেওয়াজ ছিল। তবে মহানগর কার্যালয় উদ্বোধনী পর্বে এ রেওয়াজের ব্যত্যয় ঘটল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাছিম হোসেইন বলেন, ‘যেহেতু মহানগরের কার্যালয় উদ্বোধন হয়েছে, তাই মহানগর ও ওয়ার্ড কমিটির সবাইকে দাওয়াত করা হয়েছে। এর বাইরে অন্য কোনো নেতা-কর্মীকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি।’

কোনো বিভেদ-দ্বন্দ্ব থেকে কিংবা আসন্ন সিলেট সিটি নির্বাচনে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের পাশ কাটাতে এমনটা করা হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments