মৌলভীবাজার :: মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌর সভার একটি কমিউনিটি সেন্টারে কানাডা প্রবাসীর বৌভাত অনুষ্ঠানে ছিলেন বাড়ির সকল। আর এ সুযোগে দিনদুপুরে বাড়ির পেছনের গেইট ভেঙে ডাকাতরা বাসায় ঢুকে আলমারি ভেঙে নিয়ে গেছে ইউএস ডলার, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, দামি মোবাইল ফোন ও ঘড়িসহ প্রায় ৩০ লাখ টাকার মালামাল।
রোববার (১৩ জুলাই) দুপুর তিনটার মধ্যে এ দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা ঘটে পৌর শহরের পাখিয়ালায় এলাকায় হাজী আব্দুল আলী ট্রেড সেন্টারের স্বত্বাধিকারী শামীম আহমদের সুরক্ষিত বাসভবনে।
পরে বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান মোল্লার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বাড়ির গৃহকর্মী স্বপ্না বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার ও ডাকাত চক্রকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
এদিকে উপজেলা প্রশাসন ও থানা কমপ্লেক্সের মাত্র ২-৩ শ মিটার দূরত্বে দিনের বেলায় ডাকাতির ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী বিস্মিত। তাদের দাবি, অতীতে দিনের বেলা এ ধরনের কোনো ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি।
জানা গেছে, ব্যবসায়ী শামীম আহমদের ছেলে কানাডা প্রবাসী সাকিব আহমদের বৌভাত ছিল রোববার। আত্মীয়-স্বজনরা দ্বিতল বাড়ির প্রত্যেকটি রুমে তালা দিয়ে চলে যান স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে বৌভাত অনুষ্ঠানে। বেলা আড়াইটার দিকে পরিবারের কয়েকজন মহিলা বাড়ি ফিরে দেখেন পেছনের ফটক ও প্রত্যেকটি রুমের দরজার তালা ভাঙা। ভেতরে আলমারির তালাও ভাঙা এবং মালামাল তছনছ করা।
শামীম আহমদের ভাই, আমেরিকা প্রবাসী সেলিম আহমদ, ভাতিজা সাকিব আহমদের বিয়েতে স্বপরিবারে দেশে আসেন। বিয়ের অনুষ্ঠান আগের দিন শেষ হলেও বৌভাত ছিল রোববার। আত্মীয়-স্বজনে ছিল বাড়ি ভর্তি।
শামীমের চাচাতো ভাই মিজানুর রহমান জানান, প্রাথমিক হিসাবে, ডাকাতরা নগদ ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা, ৫০০ ইউএস ডলার, ১৫ থেকে ২০ ভরি স্বর্ণালংকার, দামি হাতঘড়ি ও ৫টি মোবাইল ফোনসেটসহ অন্তত ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। দোতলা বিল্ডিংয়ের নিচের তিন রুম ও উপরের তিন রুমে ডাকাতরা হানা দিয়েছে। পাঁচ রুমের প্রত্যেকটি স্টিল ও কাঠের আলমারি ভেঙে তছনছ করে টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে গেছে। একটি রুমের ভেতরের আলমারির তালা ভাঙতে পারেনি ডাকাতরা, এজন্য ওই রুমের টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মালামাল রক্ষা পেয়েছে।
বড়লেখা থানার ওসি মাহবুবুর রহমান মোল্লা সোমবার জানান, বাড়ির গৃহকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশের একটি বিশেষ টিম মাঠে কাজ করছে।


