নিজস্ব প্রতিবেদক : মৌলভীবাজার জেলার শেরপুরে পৌষ-সংক্রান্তি ও নবান্ন উৎসব উপলক্ষে শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী ‘মাছের মেলা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই মাছের মেলা এখন এই অঞ্চলে মানুষের জন্য ঐতিহ্যের অংশ হয়ে ওঠেছে।
শতবর্ষী এই মাছের মেলা লোকমুখে বলা হলেও অনেকে বলছেন প্রায় দেড় থেকে দুইশো বছর ধরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই মাছের মেলা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মাছ নিয়ে মেলায় আসেন মাছ ব্যবসায়ীরা। এই মেলায় খুচরা ও পাইকারি মাছ বিক্রি করা হয়। মেলাকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ বিরাজ করছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত থেকে শুরু হয়ে বুধবার (১৩ জানুয়ারি) সারা রাত চলে এই মেলা। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের শেরপুর কুশিয়ারা নদীর পারে শতবর্ষী এই মেলা বসেছে। ঐতিহ্যবাহী মেলায় সারারাত ও দিনে পৌষসংক্রান্তি উপলক্ষে পাইকারি ও খুচরা মাছ বিক্রি হয়। ছোট বড় সব ধরনের দেশীয় মাছ পাওয়া যায় এ মেলায়। মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের দোকান বসে মেলার আশপাশে।
স্থানীয়ভাবে জানা যায়, প্রায় ১০০ বছর ধরে পৌষ-সংক্রান্তি ও নবান্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে শেরপুরের কুশিয়ারা নদীর পারে আয়োজন করা হয় এই মাছের মেলা। বরাবরের মতো এবারের মেলায় লাখ টাকা দাম চাওয়া হয়েছে একটি বাঘ আড়ই দাম।
কুশিয়ারা নদীর তীরে শেরপুর বাজারের দক্ষিণ মাঠে এ মেলা বসেছে। মেলা উপলক্ষে মৌলভীবাজারসহ আশপাশের জেলা থেকে প্রতিবছর কয়েক লাখ মানুষের সমাগম ঘটে। মেলায় আগত ব্যবসায়ীরা দুদিন আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মাছের আড়তদারদের কাছ থেকে মাছ নিয়ে আসা হয়েছে। মজুত করে রাখা হয়েছে ছোট-বড় নানা জাতের মাছ সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত এই মাছ বিক্রি হবে।
মাছের পাশাপাশি মেলায় বড় বড় দোকানে নানা ধরনের কৃষিপণ্য ও বিভিন্ন ধরনের আসবাব, শৌখিন জিনিসপত্র, শিশুদের খেলনার সামগ্রী নিয়েও বসেছে অনেক দোকান।
এলাকার প্রবীণরা জানান, প্রায় শতবছর আগে বিভিন্ন হাওর ও কুশিয়ারা নদী থেকে মাছ শিকার করে পৌষ-সংক্রান্তি ও নবান্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে বিক্রি করা হতো। কালে কালে এই মাছের মেলার বিস্তার লাভ করেছে। বর্তমানে এই মেলা দেশের অন্যতম বৃহৎ মাছের মেলা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শেরপুরের মাছের মেলা উপলক্ষে ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মেলায় আগত মাছ ব্যবসায়ী অধীর দাস ও কাজল পাল বলেন, আমরা প্রায় ৩০-৩৫ বছর ধরে মাছের ব্যবসা করি।
ঐতিহ্যবাহী মেলায় আমরা প্রতি বছরই আসি, এখান থেকে পাইকারি মাছ কিনে আমরা স্থানীয় বাজারে পৌষসংক্রান্তি উপলক্ষে মাছের বাজারে বড় ছোট মাছ বিক্রি করে আসছি।
মেলায় আগত সৌখিন ক্রেতা দেলওয়ার হোসেন ও অশোক সরকার বলেন, আমরা শখের বসে প্রতিবছর এই মেলায় আসি। এই মেলায় সব ধরনের বড়বড় মাছ দেখা যায়। আমরা সামর্থ্য অনুযায়ী মাছ কিনে নেই। এখানে এত বড় মাছ ওঠে যা কল্পনা করার মতো না। তবে দাম এবারও বেশি। এই মেলা শতবছর ধরে ঐতিহ্য বহন করে আসছে।
মেলায় আগত মানুষের আকর্ষণ থাকে বড় মাছের প্রতি। বিশেষ করে বাঘাইড়, বোয়াল, কাতলা, আইড়, চিতল, রুই, সিলভার কার্পসহ ইত্যাদি মাছ বেশি পাওয়া যায়।
শেরপুরের বড় মাছের মেলা ছাড়া মৌলভীবাজার পৌষসংক্রান্তি উপলক্ষে সকল ছোটবড় বাজারে মাছের মেলা বসে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বড়বড় মাছ সংগ্রহ করে পৌষসংক্রান্তির মাছের মেলায় বিক্রি করেন।
মৌলভীবাজার মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, মাছের মেলা উপলক্ষে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেই জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
পৌষ-সংক্রান্তি উপলক্ষে শেরপুরে বসেছে শতবর্ষী মাছের মেলা
RELATED ARTICLES


