সিলেট প্রতিনিধি: প্রবাস থেকে যে বাড়িতে হাসিমুখে ফেরার কথা ছিলো তাদের, আর পরিবারের সবাই মেত উঠার কথা ছিলো উচ্ছ্বাসে, সে বাড়িতে কফিনবন্দির হয়ে ফিরলেন কাতারে দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া কানাইঘাটের ৫ প্রবাসী। আর পরিবারের সবাই ভেঙে পড়লেন কান্না আর আর্তনাদে।
মঙ্গলবার সকালেই গানাইঘাটের ঝিঙ্গাবাড়িতে নিজ বাড়িতে ফেরে নিহত ৫ জনের মরদেহ। ৫ টি অ্যাম্বুলেন্সে করে ওসমানী বিমানবন্দর থেকে তাদের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় স্বজনদের পাশপাশি প্রতিবেশিরাও কান্নায় ভেঙে পড়েন। মরদেহ দেখতে ভীড় করেন আশপাশের মানুষজন।
দুপুরে গাছবাড়ি মাদ্রাসা মাঠে একসাথে ৫ জনের জানাযা সম্পন্ন হয়। এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার হাজারো মানুষজন অংশ নেন। দুপুরেই পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে।
এরআগে সকাল পৌণে সাতটার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২২৬ ফ্লাইটটি সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে ৫ প্রবাসীর মরদেহ।
বিমানবন্দরে নিহতদের পরিবারের কাছে মৃতদেহ হস্তান্তর করে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এসময় তাদের কাছে সয়াহতার চেকও প্রদান করা হয়। বিমানবন্দরে বিএনপি ও জামায়াত নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
বিমানবন্দর থেকে লাশবাহী এম্বুল্যান্সে মরদেহগুলো নিয়ে যাওয়া হয় কানাইঘাটে নিহতদের গ্রামের বাড়িতে।
এর আগে, গত ২১ জুন কাতারের শাহানিয়া এলাকায় সংঘটিত এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনই সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা।
নিহতরা হলেন ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের মৃত আব্দুন নূরের ছেলে জিবাল উদ্দিন, মাঝতালুক গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন, আগতালুক গ্রামের সেলিম আহমদের ছেলে মস্তাক আহমদ, একই গ্রামের মৃত মড়া মিয়ার ছেলে জুবায়ের আহমদ এবং দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের নিজ গাছবাড়ী গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে কাদের আহমদ।
পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনে কাতার গিয়েছিলেন তারা, অথচ ফিরলেন কফিনবন্দি হয়ে। কানাইঘাট উপজেলার ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বকর জানান, দুপুরে স্থানীয় মাদ্রাসা মাঠে একসাথে ৫ জনের জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।


