Wednesday, October 21, 2026
Homeমৌলভীবাজার জেলাকুলাউড়ামৌলভীবাজারে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে কোটি টাকার ক্ষতির মুখে চা শিল্প

মৌলভীবাজারে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে কোটি টাকার ক্ষতির মুখে চা শিল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক : মৌলভীবাজারের কুলাউড়া,শ্রীমঙ্গল, রাজনগর,বড়লেখা, জুড়ি, কমলগঞ্জে তীব্র লোডশেডিংয়ে মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। চরম ক্ষতির মুখে চা শিল্প। ন্যাশনাল টি কোম্পানি (এনটিসি) এবং ৯০টি চা বাগানে গত পাঁচ দিনে বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মক বিঘœ ঘটেছে। সময় মতো প্রক্রিয়াজকরণের অভাবে চা বাগানের উত্তোলিত প্রায় কোটি কোটি টাকা মূল্যের কাঁচা চা পাতা বিনষ্ট হয়েছে। ফলে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে চা শিল্প। চা বাগান কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা যায়, কুলাউড়ার বিজয়া,দিলদারপুর,ক্লিভডন,মেরিনা,গাজীপুর ঝিমাই, কালিটি ও কমলগঞ্জ উপজেলার এনটিসি’র পাত্রখোলা, মাধবপুর, কুরমা, চাম্পারায় ও মদনমোহনপুর চা বাগানে সম্প্রতি উত্তোলিত ৭লাখ কেজি কাঁচা চা পাতা ইতিমধ্যে বিনষ্ট হয়েছে। বিদ্যুৎ সুবিধা পাওয়া গেলে এগুলো প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ১ লাখ ৬০ হাজার কেজি তৈরি চা হতো। যার বাজার মূল্য চার কোটি টাকা। তীব্র লোডশেডিংয়ের কারনে চাবাগান সমুহে একদিকে কাঁচা পাতা বিনষ্ট হয়ে লোকসান গুণতে হচ্ছে, অন্যদিকে উৎপাদন খরচ বাড়ছে।

এনটিসি, ডানকান ব্রাদার্স, চা বোর্ড, দেউন্দি টি কোম্পানিসহ ব্যক্তি মালিকানাধীন ও ফাঁড়ি বাগান মিলিয়ে ৭০টি চা বাগান রয়েছে। তবে সম্প্রতি সময়ে মারাত্মক বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারনে চা বাগান সমুহে উৎপাদন ব্যাহত ও ক্ষতির মুখে পড়েছে। চা প্রক্রিয়াজাত করার ধাপগুলো খুবই সময়সংবেদনশীল থাকায় পাতা তোলার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়াজাতকরণ কাজ না হলে চায়ের স্বাভাবিক স্বাদ ও গন্ধ নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণেই বিদ্যুৎ বিভ্রাট সরাসরি উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

এনটিসি’র সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ এপ্রিল থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ একেবারেই কমে আসে। ২৫ এপ্রিল থেকে ২৯ এপ্রিল দুপুর পর্যন্ত গড়ে সাড়ে ৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এতে চা কারখানা সমুহে উৎপাদনে মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। চা বাগান গুলোতে প্রচুর পরিমাণে কাঁচা চা পাতা উত্তোলিত হলেও তীব্র লোডশেডিং এর কারনে সময়মতো প্রক্রিয়াজাতকরণ সম্ভব হচ্ছে না। ফলে উত্তোলিত কাঁচা পাতার বৃহৎ অংশ বিনষ্ট হচ্ছে।

এ বছর চা পাতার ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে সেই সুযোগ কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এই সময়ে দিনের প্রায় ২০ থেকে ২১ ঘন্টা সময় বিদ্যুৎ না থাকায় কারখানার মেশিন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ফলে কাঁচা পাতা সংগ্রহের পর দ্রুত প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হচ্ছে না, আর এতে পাতা পচে যাচ্ছে বা মান হারাচ্ছে।

তাদের মতে, গত ২৭ এপ্রিল অকশনে পূর্বের উৎপাদিত পাঁচ চা বাগানের ৫১ হাজার কেজি চা বিক্রি হয়। যার মূল্য আসে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ভালোভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ হলে আরো অধিক চা বিক্রি করা যেতো।

ন্যাশনাল টি কোম্পানির ডিজিএম মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে বিদ্যুৎ বিপর্যয় এমনহারে দাঁড়িয়েছে যে গত ২৫ এপ্রিল থেকে ২৯ এপ্রিল দুপুর পর্যন্ত মাত্র সাড়ে চার ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়েছে। ফলে চা কারখানা চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। উত্তোলিত পাতা প্রক্রিয়াজাতকরনের অভাবে বিনষ্ট হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ক্ষতি আরও বাড়বে। তারা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।

মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম রঞ্জন কুমার ঘোষ এর মোবাইল ফোনে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments