Wednesday, October 21, 2026
Homeমৌলভীবাজার জেলাকুলাউড়াবিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী চুঙ্গা পিঠার উপকরণ ‘ঢলু বাঁশ’

বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী চুঙ্গা পিঠার উপকরণ ‘ঢলু বাঁশ’

নিজস্ব প্রতিবেদক : বৃহত্তর সিলেটের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী চুঙ্গা পিঠার ঢলু বাঁশ প্রায় বিলুপ্তির পথে। এখন  গ্রামীণ এলাকার বাড়িগুলোতে চুঙ্গাপুড়ার আয়োজন তেমন হচ্ছেনা। শীতের রাতে খড়কুটো জ্বালিয়ে সারা রাত চুঙ্গাপুড়ার দৃশ্যও এখন আর দেখা যায় না। মাছের মেলা থেকে মাছ কিনে কিংবা হাওর-নদী থেকে ধরা হতো রুই, কাতলা, চিতল, বোয়াল, পাবদা মাছ। সেই মাছ হালকা মসলা দিয়ে ভেজে (আঞ্চলিক ভাষায় মাছ বিরাণ) চুঙ্গাপুড়া পিঠা খাওয়া ছিল সিলেটের সকল জেলা ও উপজেলার অন্যতম ঐতিহ্য।
জানা যায়, বড়লেখার পাথরিয়া পাহাড়, জুড়ীর লাঠিটিলা, রাজনগর, কমলগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলার উঁচু-নিচু টিলা, চা-বাগান ও জুড়ী উপজেলার চুঙ্গাবাড়ীতে প্রচুর ঢলু বাঁশ পাওয়া যেত। বনদস্যু, ভূমিদস্যু ও পাহাড়খেকোদের কারণে বনাঞ্চল উজাড় হয়ে যাওয়ায় হারিয়ে গেছে এসব ঢলু বাঁশ। কিছু কিছু টিলায় সীমিত পরিমাণে ঢলু বাঁশ পাওয়া গেলেও পাহাড়ে আগের মতো বাঁশ নেই বলে বাজারে ঢলু বাঁশের দামও বেশ চড়া। বাড়িতে মেহমান বা নতুন জামাইকে চুঙ্গাপুড়া পিঠা মাছ বিরাণ আর নারিকেলের পিঠা পরিবেশন না করলে যেন লজ্জায় যেন মাথা কাটা যেত। এখন আর সেই দিন নেই। চুঙ্গাপিঠা তৈরির প্রধান উপকরণ ঢলু বাঁশ ও বিভিন্ন বিরুনী ধানের চাল সরবরাহ অনেক কমে গেছে। অনেক স্থানে আগের মতো তেমন চাষাবাদও হয় না।
ঢলু বাঁশ ছাড়া চুঙ্গাপিঠা তৈরি করা যায় না কারণ এই বাঁশে এক ধরনের তৈলাক্ত রাসায়নিক পদার্থ থাকে, যা আগুনে বাঁশের চুঙ্গাকে না পোড়াতে সাহায্য করে। ঢলু বাঁশে অত্যধিক রস থাকায় আগুনে না পুড়ে ভিতরের পিঠা আগুনের তাপে আগে সিদ্ধ হয়ে যায়। কোনো কোনো অঞ্চলে চুঙ্গার ভেতরে বিন্নি চাল, দুধ, চিনি, নারিকেল ও চালের গুঁড়া দিয়ে পিঠা তৈরি করা হয়। পিঠা তৈরি হয়ে গেলে মোমবাতির মতো চুঙ্গা থেকে পিঠা আলাদা হয়ে যায়। চুঙ্গা পিঠা পোড়াতে প্রচুর পরিমাণে খড়ের দরকার পড়ে।
কুলাউড়ার সৈকত দাশ ও তাপস দেব জানান, সব সময় তো এই বাঁশগুলো পাওয়া যায় না। পৌষসংক্রান্তি উপলক্ষে এগুলো খুব কম পরিমাণ বাজারে উঠেছে। আজ থেকে ১০ কিংবা ১৫ বছর আগে প্রচুর দেখা যেত। এখন কালের বিবর্তনে সব হারিয়ে যেতে বসেছে। বাজারে আসার সময় পরিবারের সদস্যরা বলল পিঠা তৈরির জন্য ঢলু বাঁশ নিয়ে যেতে। তাই কয়েকটা বাজার ঘুরে দেখলাম কিন্তু পেলাম না। উত্তরবাজারে অল্প পরিমাণ ঢলু বাঁশ নিয়ে এসেছেন বিক্রেতারা। সেখান থেকে কিছু ঢলু বাঁশ নিয়ে যাচ্ছি পরিবারের সদস্যদের খুশি করতে। ছোট বাচ্চা থেকে বয়স্করা চুঙ্গা পিঠা মাছ ভাজা কিংবা খেজুর গুড় দিয়ে খেতে ভীষন পছন্দ করে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments