ডেক্স রিপোর্ট : শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দীর্ঘদিনের যাত্রী হয়রানি ও অনিয়ম কমাতে কাজ করে প্রশংসায় ভাসছেন এক তরুণ ম্যাজিস্ট্রেট। দেখতে যেমন স্মার্ট, কাজেও তেমনি দক্ষ। নাম তার নওশাদ খান।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি কমাতে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ই-স্কুটারে ছুটে চলছেন তিনি। তাৎক্ষণিক অভিযান, দ্রুত সিদ্ধান্ত ও নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে বিমানবন্দরের শৃঙ্খলা ফেরাতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন এই ম্যাজিস্ট্রেট।
নওশাদ খান বিমানবন্দরের ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্বে এসেছেন খুব বেশি দিন হয়নি। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি প্রবাসী ও যাত্রীদের আস্থায় পরিণত হয়েছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তার নেওয়া একাধিক উদ্যোগ ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
৫ টাকার সমুচা ৩০ টাকায় বিক্রির অভিযোগে এক দোকানিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা, বিমানবন্দরের ক্যান্টিনগুলোতে পচা ও বাসি খাবারের বিরুদ্ধে কঠোর তদারকি অসঙ্গতি পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা ও জরিমানা।
বিমানবন্দরে যাত্রীদের একটি বড় অভিযোগ ছিল বিভিন্ন পর্যায়ে হয়রানি। নওশাদ খান দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব বিষয়ে নজরদারি জোরদার করেছেন।
আরও একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ হলো— লাগেজ রিলিজের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের শরীরে ক্যামেরা সংযুক্ত করা।
এর ফলে লাগেজ সংক্রান্ত অভিযোগ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এসব ক্যামেরার ভিডিও মনিটরিং ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে, যাতে যেকোনো পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যায়।
ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান কথার চেয়ে কাজে বেশি বিশ্বাসী। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি সক্রিয়ভাবে অভিযান পরিচালনা শুরু করেন। ইতোমধ্যে মোবাইল চুরির ঘটনায় একজনকে ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
তিনি জানিয়েছেন, বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি, লাগেজ সংক্রান্ত অনিয়মসহ যেকোনো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাত্রীরা কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে দ্রুত অভিযোগ জানানোর অনুরোধও জানিয়েছেন তিনি।
তার উদ্যোগে বিমানবন্দরের হেল্পডেস্ক আরও কার্যকর হয়েছে। প্রয়োজনীয় যোগাযোগ তথ্য ব্যানার আকারে টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে যাত্রীরা সহজেই সহায়তা পান।
বিমানবন্দরের ভেতরের টয়লেট ব্যবস্থাপনাতেও নজর দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পেয়ে সেখানে সরেজমিন তদারকি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা। দীর্ঘদিন ধরে এখানে নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। নওশাদ খানের মতো দায়িত্ববান কর্মকর্তাদের মাধ্যমে যাত্রীরা স্বস্তি পাচ্ছেন বলে মনে করছেন অনেকেই।
আশা করা যায়, তার এই উদ্যোগগুলো ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং বিমানবন্দরের সেবার মান আরও উন্নত হবে। এতে প্রবাসীসহ সব যাত্রীই উপকৃত হবেন।


