Thursday, June 4, 2026
Homeবিনোদনসুকান্তের সাথে বিয়ের পিড়িতে বসতে ছুটে এসেছেন চিনা তরুণী বধু

সুকান্তের সাথে বিয়ের পিড়িতে বসতে ছুটে এসেছেন চিনা তরুণী বধু

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশে স্নাকোত্তর পড়া শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য গিয়েছিলেন চীন। সেখানে লেখাপড়া শেষ করে শুরু করেন চাকরি। বেশিদিনে মন টেকেনি। ফলে চাকুরী ছেড়ে দিয়ে শুরু করেন ব্যবসা। আর এই ব্যবসার সুবাদে পরিচয় হয় চিনের সাংহাই প্রদেশের ক্রিস হোয়ের সাথে। পরিচয় থেকে প্রেম আর প্রেম থেকে বিয়ে। চিনে বিয়ে করে এসেছেন। এখন দেশে নিজ ধর্মীয় রীতিতে বাধবেন সাঁতপাকে। আর এ জন্য চিনা তরুণীকে নিয়ে হেলিকপ্টারে করে এসেছেন নিজ বাড়ি মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের টিকরপাড়া গ্রামে। তরুণ ব্যবসায়ী সুকান্ত কুমার সেন। তিনি ওই গ্রামের প্রয়াত স্বপন কুমার সেন ও শিল্পী সেনের ছেলে। বৃহস্পতিবার বিকেলে হেলিকপ্টারে নববধূসহ সুকান্তের বাড়িতে বিদেশি নববধূকে এক নজর দেখতে বরের বাড়িতে ভিড় করেন আশপাশের এলাকার মানুষ।

সুকান্ত সেন (বর) ও তাঁর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সুকান্ত বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাকোত্তর শেষে প্রায় আট বছর আগে চীনে চলে যান। এরপর সাংহাই মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি থেকে আরেকটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। কিছুদিন চাকরি শেষে আমদানি-রপ্তানির ব্যবসা শুরু করেন।
সুকান্ত সেন জানান, তিনি ও ক্রিস হোয়ে ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি চীনে বিয়ে করেছেন। ব্যবসার সূত্রে পরিচয়ের পর থেকে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর পরিবারের কাছে প্রস্তাব করা হয়। দুই পরিবারই তাঁদের সম্পর্কে সম্মতি দেয়। ক্রিস হোয়ে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর করেছেন। এরপর ক্রিস হোয়ের আগ্রহ ও সম্মতিতে হিন্দুধর্মীয় রীতিতে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে এই বিয়ের আয়োজন। শুক্রবার ক্রিস হোয়ের বাবা ও কাকা আসবেন।
চিনা বধু ক্রিস হোয়ে বলেন, আমার দ্বিতীয়বার বাংলাদেশে আসা। সবাই বন্ধুভাবাপন্ন। সবাই উষ্ণ অভ্যর্থনা দিয়েছে। হেলিকপ্টারে আসাটা ব্যতিক্রমী। আমার জন্য খুবই উপভোগ্য হয়েছে।
বরের পরিবার জানিয়েছে, আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি গায়ে হলুদ এবং ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় বিষ্ণুপদ ধাম মন্দিরে সুকান্ত ও ক্রিস হুইয়ের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে এবং ২৪ ফেব্রুয়ারি বৌভাতের আয়োজন করা হয়েছে। আত্মীয়স্বজন ও গ্রামবাসীকে নিমন্ত্রণ করা হয়েছে। চীনের চিংহাই প্রদেশে জন্মগ্রহণ করা ক্রিস হুই চাকরির সুবাদে দেশটির অন্যতম বড় শহর সাংহাইয়ে অবস্থান করতেন। বিয়ের পর বাংলাদেশে আসার প্রবল আগ্রহ থাকলেও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল না থাকায় সে সময় বাংলাদেশে আসতে পারেননি নবদম্পতি। অবশেষে বাংলাদেশে এসে শ্বশুরবাড়ির পরিবেশ ও মানুষের আন্তরিকতায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন ক্রিস হুই।
সুকান্তের ছোট বোন ঐশী সেন বর্তমানে চীনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার আগ্রহ ছিল তার বৌদির। পরিবারের সদস্যরাও ক্রিস হুইয়ের আন্তরিকতা ও সৌজন্যে সন্তুষ্ট বলে জানান তিনি। স্থানীয়দের মতে, এলাকায় এমন ঘটনা বিরল হওয়ায় কৌতূহল ও আনন্দে মানুষজন ভিড় করছেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments