নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার: ঈদের ছুটিতে মৌলভীবাজার জেলায় পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় প্রতিদিনই বাড়তে শুরু করেছে। সোমবার (২৩ মার্চ) ঈদের তৃতীয় দিন সকাল থেকে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে প্রতিটি স্পট।
এর আগে ঈদের দিন বিকাল থেকে মৌলভীবাজার জেলায় দর্শনার্থীদের একই অবস্থা ছিল। এতে লাউয়াছড়া সড়ক ও বধ্যভূমি এলাকার সড়কে তৈরি হয় তীব্র যানজট। দর্শনার্থীরা পড়েন ভোগান্তিতে। এমন দৃশ্য দেখা যায় শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভানুগাছ সড়কের বধ্যভূমি, বিটিআরআই চা বাগান ও লাউয়াছড়া সড়ক এলাকায়।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, রমজানের একমাসের আগে থেকেই নিস্তব্ধ ছিল পর্যটন স্পট। তবে ঈদের ছুটি শুরু হতেই প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে জেলার পর্যটন স্পটগুলো। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য আর ঈদের আনন্দ দুই মিলিয়ে পর্যটকদের ভিড়ে মুখর এখন মৌলভীবাজার জেলা।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, এবার ঈদে লাখো পর্যটক মৌলভীবাজার ভ্রমণে আসতে পারেন এবং প্রায় অর্ধ শতকোটি টাকার ব্যবসার সম্ভাবনা রয়েছে।
দেখা যায়, শ্রীমঙ্গল ভানুগাছ সড়কের ১০নং এলাকা থেকে বধ্যভূমি দিকে অল্প এগোলেই যানজট শুরু। দীর্ঘক্ষণ বসে থেকে অনেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন থেকে নেমে যান। প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা হেঁটে তাঁরা বিটিআরআই চা বাগান এলাকা ঘুরে দেখেন। আবার চা বোর্ডের নিয়ন্ত্রণধীন টি রিসোর্ট এর সামনে থেকে মানুষের ঢল থাকায় যানজটে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকতে হচ্ছে। ফলে সব ধরনের দর্শনার্থীরা পায়ে হেঁটে যেতে বাধ্য হচ্ছেন বিভিন্ন স্পটে।
স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে শ্রীমঙ্গল উদ্দেশে আসেন শফিকুল ইসলাম। পরিবার নিয়ে তিনি হেঁটে হেঁটে বধ্যভূমির দিকে যাচ্ছিলেন। বনবিভাগের অফিসের সামনে থেকে একটু এগোতেই দেখি প্রচুর যানজট। কিছুক্ষণ বসে থেকে তাই পরিবার নিয়ে হেঁটেই রওনা দিলাম বধ্যভূমি ও বিটিআরআই চা বাগানে।
এদিকে জেলার হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে প্রায় পুল বুকিং থাকায় পর্যটকের উপস্থিতি লক্ষণীয়।
শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সভাপতি মো. সেলিম আহমেদ জানান, জেলার শতাধিক পর্যটন স্পটের মধ্যে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জই পর্যটকদের প্রথম পছন্দ। এ দুই উপজেলাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে দেড় শতাধিক রিসোর্ট, ইকো কটেজ ও হোটেল-মোটেল। অপরদিকে পর্যটকদের আকর্ষণ করতে প্রায় সব হোটেল-রিসোর্টে রাখা হয়েছে বিশেষ অফার ও সুযোগ-সুবিধা। একইসঙ্গে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্যুরিস্ট পুলিশ, থানা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রাধানগর এলাকায় অবস্থিত প্রায় অর্ধশত রিসোর্ট ও কটেজে ২২ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত প্রায় শতভাগ বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। শহরের হোটেলগুলোতে পর্যটকের আগমনে সেগুলোও পূর্ণ হয়ে গেছে।
মৌলভীবাজারে ঈদের ছুটিতে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে উপচেপড়া ভিড়, অর্ধ শতকোটি টাকার ব্যবসার সম্ভাবনা
RELATED ARTICLES


